প্রথম পাতা, সংসদ নির্বাচন, , ,

মন্ত্রিসভার শপথ আগামীকাল : আলোচনায় অনেক নতুন মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:৫৫:০০ মিনিট, জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন কারা, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীদের নাম শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের শরিক দলগুলোর অনেক নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, তা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চূড়ান্ত করবেন। আর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন আগামীকাল।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বর্তমান সদস্যদের অনেকেই। আবার কেউ কেউ বাদ পড়বেন বলে শোনা যাচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, আ হ ম মুস্তফা কামাল, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরো বেশ কয়েকজন আবারো মন্ত্রী হচ্ছেন।

এর বাইরে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আছে, তারা হলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ফারুক খান, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এ কে আব্দুল মোমেন, ড. আবদুর রাজ্জাক, নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, এমএ মান্নান ও সালমান এফ রহমান। তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

আর প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন, এমন সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, আবদুস সালাম মুর্শেদী, আকবর হোসেন পাঠান ফারুক, শ ম রেজাউল করিম, সিমিন হোসেন রিমি, দীপংকর তালুকদার, নাজমুল হাসান পাপন, আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, জাহিদ আহসান রাসেল, নাইমুর রহমান দুর্জয়, নূর ই আলম চৌধুরী লিটন ও হাবিবে মিল্লাত। এছাড়া মাশরাফি বিন মর্তুজাকেও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, এমন আলোচনা রয়েছে। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া সংসদ সদস্য নন, এমন কারো কারো টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনও রয়েছেন এ তালিকায়। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের নামও শোনা যাচ্ছে। বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভার সদস্য করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের শরিকদের থেকে তিনটি দলের তিনজন মন্ত্রী রয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতাদের রাখা হলেও তাতে পরিবর্তন আসতে পারে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আগামীকাল বেলা সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের আজ থেকে ফোন করে আমন্ত্রণ জানানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনের আগেই বাদ পড়েন চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী— মতিউর রহমান, মোস্তাফা জব্বার, ইয়াফেস ওসমান ও নুরুল ইসলাম বিএসসি। নতুন মন্ত্রিসভায় তাদের আবারো স্থান পাওয়ার বিষয়ে এখনই কোনো আলোচনা নেই বলে জানা গেছে। এর বাইরে বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে বাদ পড়তে পারেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে অবসরের ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়া বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবার মনোনয়ন পাননি। প্রথম দফায় তাদেরও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সুযোগ কম। বার্ধক্যজনিত কারণেও বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো কোনো সদস্য বাদ পড়তে পারেন।

এদিকে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গত শুক্রবার বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রিত্ব না নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফলে বর্তমান মন্ত্রিসভায় থাকা জাতীয় পার্টির তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন না।

গত মেয়াদের মতো এবারো নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় নতুনদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৪ সালে সরকার গঠনের সময় প্রবীণ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৭টি আসন পেয়েছে আওয়ামী লীগ। আর শরিক অন্যান্য দলসহ মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি আসন। অন্যদিকে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবারের নির্বাচনে পেয়েছে সাতটি আসন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৮৮ জন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কাছে শপথ নিয়েছেন। তবে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে শপথ নেননি বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতরা।