আন্তর্জাতিক ব্যবসা

ডব্লিউইএফের প্রতিবেদন : কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য ঘুচতে সময় লাগবে ২০২ বছর

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২২:০৩:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের সমপর্যায়ে বেতন ও আচরণ পেতে সম্ভবত এ-যাবত্কালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়ে উঠেছেন নারীরা। কিন্তু এ অর্জন খুব সহজ নয়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা আসতে কয়েক শতক লেগে যাবে। খবর এএফপি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মজুরি সমতা রক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৭ সালে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো লিঙ্গবৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছিল। তবে চলতি বছর মজুরিবৈষম্য কিছুটা কমলেও এ অর্জন রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব হ্রাস এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নারীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্যের কারণে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়বে।

বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে হারে লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে তা ১০৮ বছরেও ঘুচবে না। আর কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ কর্মীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করতে পাক্কা ২০২ বছর লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দেশ ও অঞ্চলভেদে এ পরিস্থিতি ভিন্ন। যেমন পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউরোপের দেশগুলোতে ৬১ বছরের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য দূর হবে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর এক্ষেত্রে ১৫৩ বছর লেগে যাবে। সার্বিকভাবে এক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে নরডিক দেশগুলো। এর মধ্যে আইসল্যান্ডে নারী-পুরুষরা প্রায় সমাবস্থানে রয়েছেন। লিঙ্গবৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এর পরই রয়েছে নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড।

জরিপকৃত দেশগুলোর মধ্যে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও ইয়েমেনে লিঙ্গবৈষম্য সবচেয়ে বেশি। আর বিশ্বের শীর্ষ ২০ অর্থনীতির মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে সবচেয়ে এগিয়ে ফ্রান্স, সার্বিকভাবে এক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান ১২তম। এর পরেই রয়েছে জার্মানি (১৪তম), ব্রিটেন (১৫তম), কানাডা (১৬তম) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯তম)। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ক্রমে অবনতি হচ্ছে। চলতি বছর দেশটি দুই ধাপ পিছিয়ে ৫১তম অবস্থানে নেমেছে।

জেনেভাভিত্তিক ডব্লিউইএফ ১৪৯ দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুযোগ ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন— এ চারটি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য পর্যবেক্ষণ করে এ বার্ষিক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কয়েক বছর ধরে অগ্রগতি অর্জনের পরও চলতি বছর এই তিনটি ক্ষেত্রেই নারীরা পিছিয়ে রয়েছে। শুধু অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে বৈষম্য কিছুটা কমেছে। যদিও বৈষম্য হ্রাসের হার উল্লসিত হওয়ার মতো নয়, যেখানে বৈশ্বিক পর্যায়ে মজুরিবৈষম্য কিছুটা কমে প্রায় ৫১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নেতৃত্বে নারীর সংখ্যা বেড়ে ৩৪ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ঐতিহ্যগতভাবে যেসব কাজ নারীরা করে থাকে সেগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে যান্ত্রিকতা বা অটোমেশন। ফলে দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীদের অংশগ্রহণের হার কমে গেছে। এছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিভিন্ন ক্ষেত্র যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গাণিতিক দক্ষতা চাওয়া হয় সেখানে নারীরা তুলনামূলক কম প্রতিনিধিত্ব করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো ক্ষেত্রগুলোতেও নারীদের অংশগ্রহণ খুবই কম, এ খাতের মোট শ্রমশক্তির মাত্র ২২ শতাংশ নারী।

ডব্লিউইএফের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অন্যান্য শিল্পের তুলনায় এখানে নারী-পুরুষের ব্যবধান তিন গুণ বেশি। এআই খাতে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ে নারীদের সংখ্যাও অনেক কম।’ এ অবস্থায় লিঙ্গবৈষম্য আরো গভীর হওয়া রুখতে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে ডব্লিউইএফ।