খবর, সংসদ নির্বাচন, , ,

একাদশ সংসদ নির্বাচন : ঢাকার ২০টি আসনের ২৭ প্রার্থী স্বশিক্ষিত

আয়নাল হোসেন | ০১:৪৮:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৮

সংসদ সদস্যদের ল’ মেকার বা আইনপ্রণেতা বলা হয়, যাদের থাকবে আইন সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান। আর তারাই সংসদে যাবেন জনগণের প্রতিনিধি হয়ে, যাতে জনগণের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু সে আইনপ্রণেতাদের যদি কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে, তাহলে জনগণের কল্যাণ তো দূরের কথা, পরিবর্তনশীল বিশ্বের নতুন নতুন আবিষ্কার বা উদ্ভাবন সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই থাকবে না। কিন্তু আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের ২৭ জন প্রার্থীর হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্বশিক্ষিত লেখা রয়েছে। অর্থাৎ তাদের কোনো একাডেমিক সনদ নেই।

ঢাকা-৭ আসনের ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী তাদের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্বশিক্ষিত লিখেছেন। তারা হচ্ছেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, আওয়ামী লীগের আবুল হাসনাত, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মাসুদ পাশা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রহমান ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের খালেকুজ্জামান।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, আইনপ্রণেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ তারা শুধু আইনপ্রণয়নই করবেন না, বাজেট পাসেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। এ কারণে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা দরকার। তবে সংবিধানে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধা নয়। এ কারণে অনেকেই প্রার্থী হচ্ছেন। তবে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সহজে বাছাই করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

স্বশিক্ষিত অন্য প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-১ আসনে বিকল্পধারার জালালউদ্দিন, ঢাকা-৩ আসনে বাসদের মুজিবুর রহমান হাওলাদার, স্বতন্ত্র আরিফুর রহমান লিটন ও আলী রেজা, ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা-৮ আসনে জাসদের এমএ ইউসূফ, জাতীয় পার্টির (জেপি) মিনি খান, জাকের পার্টির নজরুল ইসলাম লিটন ও ন্যাপের সুমী আক্তার শিল্পী, ঢাকা-১০ আসনে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের বাহারানে সুলতান বাহার, ঢাকা-১১ আসনে বিজেপির আবদুল বাতেন, ঢাকা-১২ আসনে এনপিপির শাহীন খান, ঢাকা-১৩ আসনে আওয়ামী লীগের সাদেক খান ও জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম, ঢাকা-১৫ আসনে বিএনএফের এসএম ইসলাম ও বিজেপির সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-১৬ আসনে এনপিপির ফরিদ উদ্দিন শেখ, বিএনএফের শামসুল আলম চৌধুরী, ঢাকা-১৭ আসনে বাসদের এসএম আহসান হাবীব, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনএফের আতিকুর রহমান নাজিম, ইসলামী আন্দোলনের আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা-২০ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আবদুল মান্নান।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, ঢাকার ২০টি আসনে অষ্টম শ্রেণী পাস প্রার্থী রয়েছেন ছয়জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আলতাফ হোসেন, ঢাকা-৭ আসনে গণফোরামের মোশারফ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আবু ইউসূফ খান। নবম শ্রেণী পাস রয়েছেন তিনজন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ঢাকা-৭ আসনে আওয়ামী লীগের হাজী সেলিম। দশম শ্রেণী পাস রয়েছেন দুজন। তারা হলেন ঢাকা-২ আসনে জাতীয় পার্টির শাকিল আহমেদ ও ঢাকা-১৯ আসনে জাকের পার্টির নূরুল ইসলাম। এসএসসি পাস রয়েছেন ১৬ জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা-১১ আসনে গণফোরামের মোজাম্মেল হক, ঢাকা-১৪ আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্রের আবু ইউসূফ ও ঢাকা-২০ আসনে জেএসডির এমএ মান্নান। এইচএসসি পাস উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, বিএনপির তানভীর আহমেদ, ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির কাজী আবুল বাশার, ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান ও সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমান ঢালী, ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় পার্টির মুস্তাকুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে আওয়ামী লীগের ইলিয়াস আলী মোল্লা, ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের আবদুল কাদের খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ওয়াকিল উদ্দিন। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আসলামুল হক তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে লিখেছেন বিটেক এইচএনডি ডিগ্রিধারী।