খবর

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দায়িত্ব মিয়ানমারের: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১:৪৮:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৮

রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করা মিয়ানমারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। গতকাল কক্সবাজারের কোনারপাড়ায় ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখে তিনি এ মন্তব্য করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত গত মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও স্থানীয় এলাকা পরিদর্শন করেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশে আসার পর এই প্রথম কক্সবাজার সফরে এসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকটি স্থাপনা পরিদর্শন করেন। যার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য ক্লিনিক, খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র, পাচার রোধ ও দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র এবং শিক্ষাকেন্দ্র। সেখানে অবস্থানকালে তিনি রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রমের জটিলতা ও এর বিশালতা সম্পর্কে ধারণা নেন। রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের ওপর চালানো নৃশংসতার কথা শোনেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ ও সরকারি কর্মকর্তা এবং এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ যে উদারতা দেখিয়েছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতি তার জোরালো সমর্থনের কথা জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাঁচজন জেনারেল ও সেনাবাহিনীর দুটি ইউনিটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের গোড়ার কারণগুলোর সমাধান করা মিয়ানমারের দায়িত্ব। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ, দেশের অভ্যন্তরে চলাফেরার স্বাধীনতা ও জীবিকা অর্জনের সুযোগসহ আনান কমিশনের প্রধান সুপারিশ বাস্তবায়ন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকারকে স্বাগত জানান।

২০১৭ সালের আগস্টে চলমান সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা নাগরিক ও স্থানীয়দের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে বার্ষিক ২০ কোটি ডলারের বেশি।

নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার গত ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। তিনি বাংলাদেশকে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ শক্তিশালী সম্পর্কের পেছনে ক্রিয়াশীল রয়েছে অভিন্ন স্বার্থ।