পণ্যবাজার

খরায় গম আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন ভারতীয় চাষীরা

উৎপাদন কমে বাড়তে পারে দাম

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:৪৬:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

ভারতে চলতি বছর গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর জের ধরে দেশটি থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানিতেও টানা পাঁচ বছরের মন্দাভাব কেটেছে। সব মিলিয়ে ভারতের গম উৎপাদন ও রফতানি খাতে আশার আলো দেখিয়েছে ২০১৮ সাল। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে তীব্র খরা। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাতের অভাব ও অতিরিক্ত তাপমাত্রা ভারতীয় চাষীদের গম আবাদের আগ্রহ নষ্ট করছে। এ কারণে এবারের রবি মৌসুমে দেশটির উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে আগের মৌসুমের তুলনায় চার লাখ হেক্টর কম জমিতে গম আবাদ হয়েছে। এর জের ধরে আগামী বছর ভারতে গম উৎপাদন ও দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি কমে যেতে পারে। বাড়তে পারে কৃষিপণ্যটির দাম। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইকোনমিক টাইমস।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ। দেশটিতে উৎপাদিত গমের ৪৫ শতাংশ উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা জোগান দেন। চলতি রবি মৌসুমের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এ দুই রাজ্যে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৫৩ লাখ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। আগের মৌসুমের একই সময়ে মধ্য ও উত্তর প্রদেশে মোট ১ কোটি ৫৭ লাখ হেক্টর জমিতে কৃষিপণ্যটি আবাদ হয়েছিল।

মধ্যপ্রদেশের কৃষক মুকেশ মান্দলই জানান, বছরের এই সময়ে ভারতীয় কৃষকরা গম ও ছোলা আবাদ করেন। তিনিও প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে ছয় একর জমিতে গম আবাদ করেন। তবে এবার গমের বদলে ছোলা আবাদ করেছেন। এ বিষয়ে মুকেশ মান্দলই বলেন, গম আবাদে ছোলার তুলনায় সেচ বেশি লাগে। চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। গভীর নলকূপ বসিয়েও পানি ওঠানো যাচ্ছে না। এ কারণে ছোলার আবাদ করেছি।

খরার কারণে মধ্য প্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে আবাদ কমার প্রভাব পড়তে পারে ভারতের সম্মিলিত গম উৎপাদনে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ৯ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। চলতি বছর শেষে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন আরো ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৯ কোটি ৯৭ লাখ টন হতে পারে। ভারতের ইতিহাসে এটাই গম উৎপাদনের সর্বোচ্চ পরিমাণ। তবে খরার কারণে আগামী বছর ভারতে গম উৎপাদনের সম্মিলিত পরিমাণ ৯ কোটি ৯০ লাখ টনের নিচে নেমে আসতে পারে।

উৎপাদন কমে যাওয়ার জের ধরে ভারতের গম রফতানি খাতে নতুন করে মন্দাভাব ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গম রফতানি হয়েছিল। সে সময় দেশটি থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ লাখ ২৪ হাজার টনে। এর পরের বছর থেকে ভারতের গম রফতানিতে ধারাবাহিক মন্দাভাব দেখা গেছে। এর জের ধরে ২০১৭ সালে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সাকল্যে ৪ লাখ ৩৯ হাজার টন গম রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কম।

চলতি বছর বাম্পার ফলনের কারণে ভারতের গম রফতানি খাতও চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ভারত থেকে সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টন গম রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। তবে এবারের রবি মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে ভারতের গম রফতানি খাতে নতুন করে মন্দাভাব ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ভারতের বাজারে কৃষিপণ্যটির দাম বেড়ে যাবে। ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য দেশটি গম আমদানি বাড়িয়ে দিতে পারে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে গমের দাম।