পণ্যবাজার

কয়লা উত্তোলন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ইন্দোনেশিয়া

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:৩৯:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৮

চলতি বছর সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টনের বেশি কয়লা উত্তোলনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। বিশ্লেষকরা জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলনে এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণ কার্যত অসম্ভব বলে মত দেন। এর বিপরীতে লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয় দেশটির সরকার। তবে বছরের শেষ মাসে এসে কয়লা উত্তোলনের বার্ষিক লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় বলে স্বীকার করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ২০১৮ সালে দেশটিতে বার্ষিক লক্ষ্যের তুলনায় ৫ শতাংশ কম কয়লা উত্তোলন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। খবর মন্টেল, রয়টার্স ও জাকার্তা পোস্ট।

ইন্দোনেশিয়ার খনিগুলো থেকে ২০১৭ সালে সব মিলিয়ে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন হয়েছিল। এর জের ধরে চলতি বছরের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার মিনিস্ট্রি অব এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেসের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বছর শেষে মোট ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়। তবে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জ্বালানি পণ্যটির বার্ষিক উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৫০ কোটি ৭০ লাখ টন। চলতি বছর কয়লার এ বাড়তি উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য তা কোটা আকারে ইন্দোনেশিয়ার ৩২টি উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টন করা হয়। মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বাড়তি রফতানি চাহিদার কারণে ২০১৮ সালে প্রাথমিক লক্ষ্যের তুলনায় অতিরিক্ত ২ কোটি ১৯ লাখ টন কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ইন্দোনেশিয়া সরকার। উত্তোলন করা এসব কয়লার পুরোটাই বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হবে বলেও জানানো হয়।

তবে বছরের শেষ মাসে এসে কয়লা উত্তোলনের বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মিনিস্ট্রি অব এনার্জি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আগুং প্রিবাদি জানান, ২০১৮ সাল শেষে ইন্দোনেশিয়ার কূপগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৪৮ কোটি টন কয়লা উত্তোলন হতে পারে, যা জ্বালানি পণ্যটির বার্ষিক উত্তোলন লক্ষ্যের ৫ শতাংশ কম। সে হিসাবে চলতি বছর দেশটিতে ২০১৭ সালের তুলনায় সাকল্যে ১০ লাখ টন অতিরিক্ত কয়লা উত্তোলন হতে পারে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় বার্ষিক লক্ষ্যের তুলনায় ২ কোটি ৭০ লাখ টন কম কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ কয়লা উত্তোলনকারী দেশ। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রতি বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কয়লা রফতানি হয়। জ্বালানি পণ্যটির রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। তবে থার্মাল কয়লা (মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হয়) রফতানিতে বর্তমানে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। কয়লার সম্মিলিত বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১৬ দশমিক ১ শতাংশ দেশটি এককভাবে জোগান দেয়। ইন্দোনেশীয় থার্মাল কয়লার মান তুলনামূলক উন্নত হওয়ায় জ্বালানি পণ্যটির রফতানি চাহিদাও বেশি রয়েছে। তবে চলতি বছর রফতানি চাহিদা তুলনামূলক কম থাকাকে ইন্দোনেশিয়ায় কয়লা উত্তোলনের বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে সম্ভাব্য ব্যর্থতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আগুং প্রিবাদির মতে, চলতি বছর তিনটি কারণে কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। প্রথমত. এবারের বর্ষায় ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে খনি এলাকাগুলোয় যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় দেড়-দুই মাস ইন্দোনেশিয়ার খনিগুলো থেকে কয়লা উত্তোলন কার্যত বন্ধ ছিল। এর প্রভাব পড়বে জ্বালানি পণ্যটির বার্ষিক উত্তোলনে।

দ্বিতীয়ত. তুলনামূলক কম দাম। গত বর্ষার পর থেকে কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয় ইন্দোনেশিয়া সরকার। এ সময় জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন লক্ষ্য বাড়ানো হয় ২ কোটি ১৯ লাখ টন। লক্ষ্য পূরণে ৩২টি উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এসব উদ্যোগের কারণে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন গতি ফিরে পায়। বিপরীতে কমে যায় কয়লার দাম। দাম কমতে থাকায় উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য আর্থিক লোকসান এড়াতে কয়লার বাড়তি উত্তোলনে আগ্রহ হারান ইন্দোনেশীয় উত্তোলনকারীরা। বছর শেষে এ প্রবণতার প্রভাব পড়ছে কয়লার সম্মিলিত উত্তোলনে।

চলতি বছর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বাড়তি চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। তবে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি চাহিদা সেই তুলনায় বাড়েনি। বিশেষত ভারত ও চীনের বাজারে তুলনামূলক কম চাহিদা ইন্দোনেশীয় কয়লা রফতানিকারকদের হতাশ করেছে বলে জানান আগুং প্রিবাদি। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় উত্তোলন হওয়া কয়লার ৭৮ শতাংশ রফতানি করা হয়। বাড়তি রফতানির জন্য চলতি বছর কয়লা উত্তোলন বাড়ানোর চিন্তা করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। এ কারণে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়েনি।

মন্টেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রফতানি বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য বাড়িয়ে ৫০ কোটি টনের বেশিতে উন্নীত করেছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। এটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এ কারণে বছর শেষে কয়লা উত্তোলনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য পূরণে কার্যত ব্যর্থ হচ্ছে দেশটি।