পণ্যবাজার

ভারতে তুলার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন নেমে আসবে ৫০১ কেজিতে

খরায় উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বাড়বে দাম

বণিক বার্তা ডেস্ক    | ২১:৫৩:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৮

তীব্র খরার মুখে পড়েছে ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাটসহ আশপাশের রাজ্যগুলো। তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত ও বাড়তি তাপমাত্রায় এসব রাজ্যে তুলা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর জের ধরে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে তুলার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসতে পারে। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার জের ধরে ভারতের বাজারে বেড়ে যেতে পারে পণ্যটির দাম। দেশটির কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টেক্সটাইল কমিশনের কটন অ্যাডভাইজরি বোর্ডের (সিএবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

সিএবির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শতকের শুরুতে ভারতে প্রতি হেক্টর জমি থেকে ৩০০ কেজির সামান্য বেশি তুলা উৎপাদন হতো। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে তুলার হেক্টরপ্রতি উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়। এ ধারাবাহিকতায় পণ্যটির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৫৫০ কেজি ছাড়িয়ে যায়। তবে ২০১৫-১৬ মৌসুমে ভারতে প্রতি হেক্টর জমি থেকে ৪৫৯ দশমিক ২ কেজি তুলা উৎপাদন হয়েছিল। পরের মৌসুমে (২০১৬-১৭) পণ্যটির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪১ দশমিক ৮ কেজিতে।

২০১৭-১৮ মৌসুমে ভারতে প্রতি হেক্টর জমি থেকে তুলা উৎপাদন ৩৫ দশমিক ৭ কেজি কমে ৫০৬ দশমিক ১ কেজিতে নেমে আসে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে তুলার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন আরো কমে ৫০১ দশমিক ৫ কেজিতে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিএবি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কমতে পারে ৪ দশমিক ৬ কেজি। তিন বছরের মধ্যে এটাই ভারতে পণ্যটির সর্বনিম্ন হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের পরিমাণ। আর এক দশকের মধ্যে এটা দেশটিতে তুলার হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পরিমাণ বলে জানিয়েছে সিএবি।

ভারতে উৎপাদিত তুলার প্রায় অর্ধেকই জোগান দেয় মহারাষ্ট্র ও গুজরাটসহ সংলগ্ন রাজ্যগুলো। এবারের বর্ষা মৌসুমে এসব রাজ্যে বৃষ্টিপাত প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ার কারণে তুলার হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটিতে সামগ্রিক তুলা উৎপাদনেও মন্দাভাব দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সিএবি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) তুলা উৎপাদন হয়েছিল। খরার কারণে ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে তুলার সম্মিলিত উৎপাদন ৩ কোটি ৬১ লাখ বেলে নেমে আসতে পারে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে নয় লাখ বেল।

বিশ্বের তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান শীর্ষে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রতি বছর দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা রফতানি হয়। পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভারতে তুলা উৎপাদনকারীদের শীর্ষ সংগঠন কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিএআই)। সংগঠনটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৬৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন ৩ কোটি ৪৩ লাখ বেলে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিএআই। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ভারতে তুলা উৎপাদন কমতে পারে ২২ লাখ বেল।

আবহাওয়াজনিত কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেকটা একই রকম পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে ভারতে ২ কোটি ৮০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম।

সিএআই প্রেসিডেন্ট অতুল জ্ঞানেত্র বলেন, ভারতে তুলা উৎপাদন কমলেও পণ্যটির চাহিদা বাড়তির দিকে রয়েছে। এ কারণে আগামী দিনগুলোয় ভারতের বাজারে তুলার দাম আরো চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে।