খবর

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ০২:১৯:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ০২, ২০১৮

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আসা অনুদানের কত অংশ জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ও বিদেশী এনজিওগুলো তাদের নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা ও ত্রাণের জন্য ব্যয় করছে, তার তথ্য প্রকাশ করা উচিত। কেননা এর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাপ্ত তহবিলের স্বচ্ছতার বিষয়টি জড়িত। এছাড়া কক্সবাজারের অর্থনীতি ও পরিবেশের উন্নয়নের জন্য আলাদা পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন তারা।

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কোস্ট ট্রাস্ট আয়োজিত ‘ইন্টিগ্রেশন অব গ্রান্ড বারগেন কমিটমেন্টস অ্যান্ড লোকালাইজেশন: এইড ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সভায় রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় গৃহীত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) ২০১৯-এ কক্সবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি এবং পরিবেশের উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আব্দুস সালাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সাপ্পো, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ প্রধান জর্জ জিওগারি, ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি পাপা কাইসমা সিলা, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি এবং গ্লোবাল লোকালাইজেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য অনিতা কাট্টাখুজি প্রমুখ। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একই সংস্থার মো. মজিবুল হক মনির। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য ভিত্তিচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়টি উঠে আসে।

মুজিবুল হক মনির বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থাগুলো এ পর্যন্ত ৬৮২ মিলিয়ন ডলার তহবিল পেয়েছে, তাতে প্রতিটি রোহিঙ্গার জন্য মাথাপিছু প্রায় ৫৭ হাজার টাকা এসেছে। এ তহবিলের কত অংশ রোহিঙ্গাদের জন্য আর কত অংশ সংস্থাগুলোর প্রধান কার্যালয় বা মাঠপর্যায়ে তাদের পরিচালন বাবদ ব্যয় হয়েছে, তার তথ্য প্রকাশ করা উচিত। আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থাগুলো তাদের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মানে হলো তারা সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে স্থানীয় অংশীদারদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আব্দুস সালাম বলেন, প্রত্যাবাসন বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করা উচিত না। এনজিওগুলোর কাজ মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

মিয়া সাপ্পো বলেন, অংশীদারিত্বই আমাদের প্রয়াসে সাফল্য আনতে পারে। উন্নয়ন কার্যক্রমে আমাদের আরো বেশি সহযোগিতার মনোভাব দেখাতে হবে এবং সমস্যা সমাধানে আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

পাপা কাইসমা সিলা বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের ওপর থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা কমিয়ে আনা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গেও আমাদের কাজ করতে হবে, যাতে এ রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরে যেতে পারে।

অনিতা কাট্টাখুজি বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়ে অপেক্ষা করলে চলবে না, আমাদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্ব-উদ্যোগী হতে হবে। কারণ এটি শুধু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ উইংয়ের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান বলেন, সরকারের উদ্দেশ টেকসই, নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন। এ মানবিক সংকটে বৃহত্তর সমন্বয় খুব প্রয়োজন। স্থানীয় এনজিওগুলোকে এ সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে হবে।

আবু মুর্শেদ চৌধুরী রোহিঙ্গা তহবিলের ২৫ শতাংশ স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য বরাদ্দ করার জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জাতিসংঘের জেআরপি ২০১৯-এ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন।