শেষ পাতা, সংসদ নির্বাচন, , ,

মনোনয়ন পেয়ে অল্প অল্প কথা বলছেন বাকশক্তিহীন হাজী সেলিম

আয়নাল হোসেন | ০১:৪৬:০০ মিনিট, নভেম্বর ২৮, ২০১৮

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। দশম সংসদ নির্বাচনে নিজ দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এতে জয়ও পান। কিন্তু ২০১৬ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে ফেলেন বাকশক্তি। তবে সম্প্রতি হারানো বাকশক্তি ফিরে পেয়েছেন তিনি। গতবার বঞ্চিত হলেও এবার দলের মনোনয়ন পেয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন এ সংসদ সদস্য।

মনোনয়ন লাভের পর এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন হাজী সেলিম। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সবার সঙ্গে অল্পস্বল্প কথাও বলছেন তিনি। তবে কোনো বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলার প্রয়োজন পড়লে সহযোগীর সহায়তা নিচ্ছেন।

গতকাল সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকার নির্বাচনী কার্যালয় মদিনা টাওয়ারে দেখা হয় হাজী সেলিমের সঙ্গে। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভালো আছি। আগামীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকা নিয়ে কী কী কর্মপরিকল্পনা আছে, জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

শুধু বাকশক্তি ফিরে পেয়েছেন তা নয়, দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর বেশ উজ্জীবিতও দেখা গেছে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা হাজী সেলিমকে। মনোনয়ন পাওয়ায় নেতাকর্মীদের নিয়ে তা উদযাপনও করেন তিনি। এ সময় বেশ নেচেছিলেনও, যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

মনোনয়ন পাওয়ার পর হাজী সেলিমের উজ্জীবিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তার বড় ছেলে সোলায়মান সেলিম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বাবা। এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। গণমানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এলাকায় জনপ্রিয়তার কারণে আওয়ামী লীগের তিন দফা জরিপে বাবা এগিয়ে ছিলেন। আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে ঢাকা-৭ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন তিনি।’

ঢাকা-৭ আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন সাংবাদিক আনিস আহামেদ। তিনি বলেন, হাজী সেলিম ভালোমতো কথা বলতে না পারলেও তিনি সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও পারিবারিক যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে স্ট্রোকজনিত সমস্যায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন মদিনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী সেলিম। এরপর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে গত বছর দেশে ফেরেন। তবে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, পারিবারিক ও সামাজিক সব ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন ইশারা-ইঙ্গিতে। তাকে সহায়তা করতেন তার স্ত্রী গুলশান আরা বেগম ও বড় ছেলে সোলায়মান সেলিম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৭-১৯৮৮ সালের দিকে হাজী সেলিম মদিনা ট্রেডিং করপোরেশন নামের প্রতিষ্ঠানের সিমেন্টের ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯০ সালের দিকে তিনি বিএনপি নেতা মীর শওকত আলীর হাত ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৪ সালে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৬৫ ও ৬৬ নম্বর দুটি ওয়ার্ড থেকে গরুর গাড়ি মার্কায় কমিশনার পদে নির্বাচিত হন। শুরুতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র না পেয়ে তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকার লালবাগ, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এর পর থেকে তার ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সামনে এগিয়ে চলার উত্থান শুরু হয়। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর কাছে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। তবে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে হাজী সেলিম বিদেশে গা-ঢাকা দেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।