টকিজ

ধর্মান্তর নিয়ে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এআর রহমানকে

ফিচার ডেস্ক | ২১:১৯:০০ মিনিট, নভেম্বর ১১, ২০১৮

ইসলামের প্রতি বিশ্বাস এআর রহমানকে কীভাবে স্থির, শান্ত আর জীবনের সঠিক পথে পরিচালিত হতে সাহায্য করছে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি এর বর্ণনা দিয়েছেন। এআর রহমান উল্লেখ করেন, ‘লোকজন প্রায়ই তাকে জিজ্ঞেস করে, তারাও ধর্মান্তরিত হলে কি জীবনে আমার মতো সফল হতে পারবে।’

অস্কারজয়ী এ শিল্পী তার জীবনের সব অর্জনের কৃতিত্ব প্রায়ই ইসলামকে দিয়ে থাকেন। জীবনের ভীষণ সংকটের সময় তিনি এ ধর্মকে বাঁচার অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন নানা সময়ে।

এআর রহমান তার জীবনী নোটস অব এ ড্রিম বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আগতদের সঙ্গে আলাপচারিতায় রহমান তার ধর্মান্তরিত হওয়া প্রসঙ্গে লোকজনের কৌতূহল বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বলেন, ‘এটা ধর্মান্তরিত হওয়া, না হওয়ার বিষয় নয়। এটা আপনি সেই মোক্ষম জায়গাটি খুঁজে পেলেন কিনা, যা টিপে দিয়ে আপনাকে জাগিয়ে দেয়া হলো কিনা, সে রকম একটা ব্যাপার। আমার ক্ষেত্রে আমার আধ্যাত্মিক শিক্ষক এ কাজটি করেছেন, এই সুফি গুরু আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন আর আমার মা মনে করেছেন, এটা খুবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার জীবনের জন্য, এ রকমটা অন্য অনেক বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও আছে। আমরা শুধু ওই বিশ্বাসটাকে গ্রহণ করেছি, তাকে সবলভাবে আঁকড়ে ধরেছি’— সরল স্বীকারোক্তি করেন এ কিংবদন্তি সংগীত ব্যক্তিত্ব।

এর সঙ্গে তিনি আরো যোগ করেন, তার বিশ্বাসই তাকে সঠিক পথে ধরে রেখেছে। ‘এটা আমাকে অনেক পতন থেকে রক্ষা করেছে, কারণ প্রতিটি নামাজের আগে আমার এই উপলব্ধি কাজ করে ‘উহ্! আমাকে নামাজ পড়তে হবে কাজেই এই অপকর্ম আমার করা ঠিক হবে না।’ এই তো সন্ধ্যার সময়েই আমাকে নামাজ পড়তে হবে কাজেই আমি এটা করতে পারি না। কাজেই এটা এভাবেই আপনাকে আবৃত করে রাখে এবং ভোরে প্রার্থনার পর একটা শান্তির অনুভূতি আসে ... এ রকম অন্য বিশ্বাসেও হয়।’

এআর রহমানের জীবনীকার কৃষ্ণ ত্রিলোক আর প্রকাশক ল্যান্ডমার্ক ও পেঙ্গুইন র‌্যানডম হাউজ। গত শনিবার বইটি বাজারে ছাড়া হয়েছে।

‘নোটস অব এ ড্রিম আমার কাছে একটা ভ্রমণের মতো। এই ভ্রমণ আমাকে জীবনের ওইসব বাঁকের কাছে নিয়ে গেছে, যা বহু বছর ধরেই অকথিত। কৃষ্ণ ত্রিলোকের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় আমার জীবনের সৃজনশীলতা আর ব্যক্তিজীবনের এমন সব দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা অনেকেরই অজানা’— বলেন রহমান।

তিনি আরো বলেন, তার কাজকে যারা ভালোবেসেছেন, তার জন্য যারা প্রার্থনা করেছেন, তাদের সবার কাছেই তিনি কৃতজ্ঞ।

‘তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব হতো না। আশা করি এ বই পাঠকের মধ্যে ইতিবাচকতা, উদ্যম আর ভালোবাসা তৈরি করবে। উদ্যমী, সহজ, সরল ভাষায় ত্রিলোক বর্ণনা করে গেছেন।’

আর ত্রিলোক বলেন, একজন লেখকের জন্য এআর রহমানের জীবনের গল্প তুলে ধরাটা একটি জাদুকরী ভ্রমণের মতো।

 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস