আপন অঙ্গন

‘আধুনিক শিক্ষাই তাদের মূলমন্ত্র’

ফাহমিদা তাপসী | ২০:৫৬:০০ মিনিট, অক্টোবর ০১, ২০১৮

১৬ বছরের পথচলায় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলাম, শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক নিয়োগ সবকিছুতেই পরিবর্তন লক্ষণীয়। এর বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০। সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক উত্কর্ষ সাধনও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান লক্ষ্য

সময়কাল জুন, ২০০২। খুব একটা প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা করে নতুন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়, তেমন-প্রচার প্রসার নেই, তবু ভালো বিষয় হিসেবে যা ছিল, তা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্ষদ প্রতিটি বিভাগের শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্নদের নিয়োগ দিয়েছে। কেননা ভালো মানের শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটাই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্দেশ্য ছিল। এতসব কথা যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘিরে, সেটি হচ্ছে বর্তমান সময়ের বেশ সুপরিচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। আজকের আয়োজনে থাকছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি—

শুরুটা ছোট পরিসরে হলেও ১৬ বছরের ব্যবধানে পরিবর্তন এসেছে অনেকখানি। শিক্ষা কারিকুলাম, শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক নিয়োগ সবকিছুতেই পরিবর্তন লক্ষণীয়। হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৫০০। এছাড়া সুদক্ষ ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দেশে-বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ ১২০ জন পূর্ণকালীন শিক্ষকমণ্ডলী, বিশ্বমানের সার্বজনীন শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে অনন্যতা দিয়েছে বলতেই হবে। সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক উত্কর্ষ সাধনও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানেই যেন চমত্কার সুবিশাল লাইব্রেরি থাকা চাই। দেশী, বিদেশী নামিদামি সব বইয়ে ঠাসা লাইব্রেরি শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশে সহায়, সেটা কার অজানা। সেদিক বিবেচনাতেও স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে বলা যায়। কেননা বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার বই, চার হাজার জার্নাল এবং ম্যাগাজিন ও প্রায় ৬০০ অডিও ভিজুয়ালসংবলিত দুটি বিশাল লাইব্রেরি রয়েছে। সেসব লাইব্রেরির দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীর মন আনন্দে নেচে উঠবে নিঃসন্দেহে।

শুধু লাইব্রেরিইবা বলছি কেন, ইন্টারনেট সুবিধাসহ বিভিন্ন বিভাগে রয়েছে পৃথক পৃথক উন্নত ও আধুনিক ল্যাব। মোট হিসাব অনুযায়ী ফার্মেসি বিভাগে ১৩টি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাঁচটি এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে তিনটি, আইন বিভাগের জন্য রয়েছে একটি সুবিশাল মুট কোর্ট। এছাড়া আর্কিটেকচার বিভাগের সমৃদ্ধ স্টুডিও ও ল্যাব এবং সাংবাদিকতা বিভাগের জন্য রয়েছে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মিডিয়া ল্যাব।

উল্লেখ্য, বর্তমানে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনটি অনুষদে ১০টি বিভাগে ১৮টি শিক্ষাক্রম চালু আছে। স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ অনুষদের প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিবিএ, এমবিএ, বিএ অনার্স ইন ইংলিশ, এমএ ইন ইংলিশ লিটারেচার, এমএ ইন ইংলিশ অ্যাপলায়েড লিংগুইস্টিকস অ্যান্ড ইএলটি, এলএলবি অনার্স, এলএলএম এবং জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিস অনার্স। স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধীনে আর্কিটেকচার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এমএস এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ। স্কুল অব হেলথ সায়েন্স অনুষদে ফার্মেসি এবং পাবলিক হেলথ বিভাগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীর মানবিক গুণাবলি বজায় রাখতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাই একাডেমিক পড়াশোনার বাইরেও বিভিন্ন আয়োজন ও কার্যক্রম রাখে। স্টেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর সমান গুরুত্ব রয়েছে এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিতর্ক, আবৃত্তি, নাচ-গান, অভিনয়, খেলাধুলাসহ সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছে নিয়মিত। এসব কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য রয়েছে ছাত্র-শিক্ষক নিয়ে গঠিত বেশ কয়েকটি সহশিক্ষা ক্লাব। যেমনটা বলা যেতে পারে— এসইউবি ডিবেটিং সোসাইটি, এসইউবি সাংস্কৃতিক ক্লাব, এসইউবি কালচারাল ক্লাব, এসইউবি কম্পিউটিং ক্লাব, এসইউবি স্পোর্টস ক্লাব, এসইউবি ফটোগ্রাফি ক্লাব এসইউবি অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব ইত্যাদি। এছাড়া একটি ইনডোর স্পোর্টস রুমও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে। যেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাঈদ সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান প্রশাসন শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর জন্য বদ্ধপরিকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন বর্তমানে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন এবং গুণগত শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় নয় হাজার ডিগ্রিধারী বর্তমানে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটো বিশেষ আয়োজন

মুট কোর্ট

ক’দিন আগের কথা— নিজেদের বানানো আদালত, বাদী-বিবাদী পক্ষের তর্কযুদ্ধ সবমিলে সত্যিকার আদালতেরই রূপ নিয়েছিল স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মুট কোর্ট। মুট কোর্ট বিষয়টি কিছুটা খুলে বললে আরো পরিষ্কার হবে পুরো দৃশ্যটি। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে মুট কোর্ট কার্যক্রম প্রচলিত রয়েছে। এখানে মূলত প্রতীকী আদালতে আইনের শিক্ষার্থীরা সালিশি মামলায় অংশগ্রহণ করেন, যা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আইন পেশার বাস্তব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করে।

গত ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিনদিন স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের উদ্যোগে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আইন বিভাগের মোট ১০টি ব্যাচের ১০টি দল থেকে তিনজন করে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা ও সেশন জজ আসগর আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইম পাঠান ও ফারজানা শারমিন পুতুল।

বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বিডিবিএল ভবন (লেভেল ১৭), ১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

পিএবিএক্স: ৮১৮৯৬২২-২৩, ই-মেইল: [email protected] | বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৬১৯