প্রথম পাতা, খবর, , ,

পোশাক খাত

ন্যূনতম মজুরি প্রত্যাখ্যান শ্রমিক সংগঠনগুলোর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:৫৩:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে একাধিক শ্রমিক সংগঠন। এ ঘোষণা পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসনের নামান্তর বলে মন্তব্য করেছে তারা। মালিকপক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শ্রমিকদের জন্য বঞ্চনামূলক এ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

শ্রমিক সংগঠন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ১৮ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকার মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে প্রহসনমূলক মজুরি ঘোষণা করেছে। দরকষাকষির ক্ষেত্রে সরকার মালিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুলের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস প্রমুখ।

বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে উপস্থিত নেতাদের পক্ষ থেকেও ন্যূনতম মজুরির এ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক জাফরুল হাসান বলেন, শ্রম আইন সংশোধন ও ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা একই সময়ে দেয়া হয়েছে। দুটিই আগের চেয়ে আরো খারাপ হয়েছে। শ্রম আইনে ৮ ঘণ্টা ডিউটির পরিবর্তে ১০ ঘণ্টা করা হয়েছে। আবার নতুন মজুরিতে শ্রমিকের বেসিক কমানো হয়েছে। এতে শ্রমিকের ওভারটাইম বাবদ আয়ও কমে যাবে।

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে গার্মেন্ট শিল্প থেকে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এ খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেয়া হয় না। আমি সরকার ও মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই বড় আন্দোলনে যাওয়ার আগেই ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করুন। না হলে দেশের পোশাক খাত শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।

এদিকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানও সরকারের বিরুদ্ধে মালিকদের চাপের কাছে নতি স্বীকারের অভিযোগ তুলেছেন। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত তিন বছরের ইনক্রিমেন্টসহ রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরির বর্তমান পরিমাণ ১৭ হাজার ৮১২ টাকা। অর্থাৎ সরকারের মানদণ্ডেও এটি প্রমাণিত, একজন শ্রমিকের মানবিক জীবনযাপনের জন্য ন্যূনতম ১৮ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার মালিকদের চাপে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকার একদিকে গার্মেন্ট মালিকদের উেস কর ও অন্যান্য করপোরেট কর কমিয়ে প্রণোদনা দিচ্ছে। অন্যদিকে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বাঁচার মতো নিম্নতম মজুরির দাবি থেকে বঞ্চিত করেও মালিকের স্বার্থ রক্ষা করছে।

বিবৃতিতে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিবেচনা করে ১৮ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

এদিকে ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির প্রতিবাদে সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে নারায়ণগঞ্জেও। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব চত্বরে এদিন সমাবেশ করে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সমাবেশে বক্তারা বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মালিকদের খুশি রাখতেই ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। এ মজুরিতে একজন শ্রমিকের পক্ষে চলা অসম্ভব। ন্যূনতম এ মজুরি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

এছাড়া গার্মেন্ট টেক্সটাইল ফেডারেশন ২ নং রেলগেট এলাকায় ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করে।