প্রথম পাতা

হাসিতেই সুখের প্রকাশ নয়

বণিক বার্তা ডেস্ক | ০০:৫৩:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

হাসি মানেই সুখ নয়। কাউকে হাসতে দেখার অর্থ এ নয় যে, তিনি বেশ সুখেই আছেন। বয়স্ক উপদেশদাতা বা জীবনের ওপর বিতৃষ্ণ দার্শনিকদের মুখে এ ধরনের কথা প্রায়ই শোনা যায়। এখন বিজ্ঞানীরাও বলতে শুরু করেছেন। তাও আবার রীতিমতো গবেষণায় উঠে আসা ফলাফলের ভিত্তিতে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্রাইটন অ্যান্ড সাসেক্স মেডিকেল স্কুলের (বিএসএমএস) নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সায়েন্স ডেইলি।

সাধারণত কাউকে হাসতে দেখলেই মনে করা হয়, তিনি বেশ সুখেই আছেন। বিশেষ করে সঙ্গীসাথীদের মধ্যে হাস্যোজ্জ্বল মুখ এ ধরনের ধারণাকে আরো পোক্ত করে। কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এক্সপার্ট ড. হ্যারি উইচেলের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণার ফল বলছে, এ ধারণা ঠিক নয়। কেউ হাসছেন, তার মানে এই নয়, তিনি সুখে আছেন।

ড. হ্যারি উইচেল ও তার সহকর্মীরা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স্ক ৪৪ ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ভূগোলসংশ্লিষ্ট এক কুইজ গেমের সহায়তায় এ গবেষণা চালানো হয়।

গবেষক হ্যারি উইচেল বলেন, কোনো কোনো গবেষকের ধারণা, সত্যিকারের হাসি মনের আনন্দ ও সুখময়তাকেই ফুটিয়ে তোলে। কিন্তু আচরণ বিজ্ঞানের তত্ত্ব বলছে, হাসি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের একটি হাতিয়ার মাত্র। এ তত্ত্বের ধারণা থেকে অনুসিদ্ধান্ত পাওয়া যায়, মানসিক আনন্দ হাসির কোনো অপরিহার্য উপাদান নয়।

মানুষ সামাজিকভাবে যে ধরনের আচরণ করে, কম্পিউটারের সামনে একা বসে থাকা অবস্থাতেও একই ধরনের আচরণ করে। হিউম্যান কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশনের (এইচসিআই) এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই ওই কুইজ গেমের নকশা করা হয় বলে জানান হ্যারি উইচেল। তিনি বলেন, আমাদের এইচসিআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণ বলছে, এ হাসি মূলত বিষয়গত যোগাযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মূলত এটিই আসলে হাসির পেছনকার সামাজিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।