শিল্প বাণিজ্য

ঢাকা চেম্বারের গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১:৪৮:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে। নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রেও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বেসরকারি খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান। তিনি বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইস্যু। দেশের বেসরকারি খাতকে জ্বালানির অপ্রাপ্যতা ও উচ্চমূল্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অপ্রতুল অবকাঠামো, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি, আইনগত দীর্ঘসূত্রতা, অপ্রতুল ঋণসহ বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি এসজিডির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি-সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। এ-বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি এ লক্ষ্যে অর্থসংস্থান নিশ্চিতকরণের আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশের বেসরকারি খাতকে সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বমূলক অংশগ্রহণ একান্ত আবশ্যক। তিনি নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও শিক্ষা খাতে গুণগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিকে অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, এসডিজির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে নীতি-সহায়তা প্রদানের ওপর জোর দেন।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি বলেন, এসডিজির তিনটি লক্ষ্য  সরাসরি বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের দেশের বাজার বেশ বড়। এ বাজারের উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আমাদের আরো উদ্যোগী হতে হবে। তিনি মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামো বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য করপোরেট করহার কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি-সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

নির্ধারিত আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তওফিকুল ইসলাম খান, মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালক তাফসীর মোহাম্মদ আওয়াল ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. এমএ রাজ্জাক অংশগ্রহণ করেন। তারা এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে গতানুগতিক ছাড়াও নতুন কিছু প্রণোদনা প্রদান ও দুর্নীতি কমানোর আহ্বান জানান।

ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে মুক্ত আলোচনা পর্বে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, পাওয়ার সেলের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেন, এমসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ফারুক আহমেদ, ডিসিসিআইয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এমএস সেকিল চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মহসিন,   ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির আবাসিক প্রতিনিধি জো হুইন প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।