শেয়ারবাজার

বিএসইসির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তারা

শেয়ারবাজারে চট্টগ্রামের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম ব্যুরো  | ১১:৪৮:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

দেশের শেয়ারবাজারের ৯৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), সেখানে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নিয়ন্ত্রণ মাত্র ৩ শতাংশ। ঢাকার বাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের ব্যবধান যদি কমানো সম্ভব না হয়, তাহলে এ বাজারের প্রতি বিশ্বস্ততা হারাবে সাধারণ বিনিয়োগকারী। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা সিএসই পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নীতিসহায়তা দিতে হবে। এতে চট্টগ্রামের শেয়ারবাজারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

গতকাল চট্টগ্রাম ক্লাবে বিএসইসি প্রতিষ্ঠার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সিএসই ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আকতার হোসেন ও সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম। প্যানেল আলোচক ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এমএ সালাম ও দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী।

সিএসই পরিচালক ডা. মঈনুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান, লোটাস সিকিউরিটিজের আবুল বাশার ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন সিএসইর এমডি এম সাইফুর রহমান মজুমদার ও সিডিবিএলের এমডি শুভ্র কান্তি চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের মাত্র ৩ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ সিএসইর। আর ডিএসইর নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৯৭ শতাংশ। তাহলে চট্টগ্রামের অবস্থান কোথায়? বিএসইসির অফিস কেন ঢাকায় হবে? আমাদের যেকোনো মিটিং করতে হলে ঢাকায় যেতে হয়। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে ব্যবধান কমাতে বিএসইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হচ্ছে শেয়ারবাজার। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে সেই দেশের অর্থনীতি ওঠানামা করে। কিন্তু বাংলাদেশে এর উল্টো। উন্নয়নশীল দেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন হয় পুঁজিবাজার থেকে। অথচ বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন হচ্ছে ব্যাংক খাতের মাধ্যমে। তাই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নীতিসহায়তার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরো উদ্যোগী হতে হবে।

পুঁজিবাজারে কোম্পানির পারফরম্যান্স নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব কোম্পানি নিয়মিত লভ্যাংশ দিচ্ছে, নিয়মনীতি মেনে চলছে, তাদের প্রণোদনা দিতে হবে। আর ফাটকাবাজ কোম্পানি, যেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ কিন্তু এখনো পুঁজিবাজারে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বাজারে বড় বড় বিনিয়োগকারীদের সুযোগ করে দিতে হবে। তাদের বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা এ বাজারে বিনিয়োগ করেন। দেশের অর্থনীতি এখন তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই দেশের অর্থনীতির অন্যতম লাইফ লাইন পোশাক খাতের কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। পুঁজিবাজারে ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা থাকলে সাধারণ বিনিয়োগকারী এখানে আসবেই।

বিএসইসির কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, কমিশন সবসময় সিএসইকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর সিএসইতে ৭০টি ব্রোকারেজ থাকলেও সেটা এখন ১৪৮টিতে উন্নীত হয়েছে। পুঁজিবাজারের গতি বাড়াতে ব্রোকার কমিউনিটিকে সক্রিয় হতে হবে। বিনিয়োগকারীদের বাজারে আসতে উদ্ভূত করতে হবে। সিএসই যদি বন্ড মার্কেট করতে চায়, তাহলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। স্টক এক্সচেঞ্জকে ফিক্সড ইনকাম ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। নিজস্ব পরিকল্পনায় সিএসই যদি কোনো উন্নয়ন করতে চায়, সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। চট্টগ্রাম হচ্ছে পর্যটন নগরী। তাই এখানে সিএসই পর্যটন বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন করতে চাইলে আমরা সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করব। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সব কোম্পানি যাতে সুশাসন মেনে চলে, সেজন্য বিএসইসি কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির দিক দিয়ে সিএসইর সক্ষমতা অনেক বেশি হলেও এর সিংহভাগই কাজে লাগানো হচ্ছে না। স্টক এক্সচেঞ্জটির উন্নয়নে বিএসইসি ও সিএসইসি চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।