দেশের খবর

খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে কক্সবাজার

বণিক বার্তা প্রতিনিধি কক্সবাজার  | ১০:৪৩:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

কক্সবাজার এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি জেলা। খাদ্যশস্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় উৎপাদনেও অবদান রাখছে এ জেলা। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে, প্রতি বছরই আমন ও বোরো মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজারে ২৪ লাখ জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা ৩ লাখ ৭০ হাজার টন। কিন্তু গত অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার টন। ফলে ৩৫ হাজার টন খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সারে সরকারের ভর্তুকি, বীজপ্রাপ্তি সহজীকরণ, সুলভমূল্যে বীজ বিতরণ, কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে প্রশিক্ষণ, কৃষকদের গ্রুপভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কৃষিতে প্রযুক্তির   ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীতে নিবিড় পরিচর্যা— এসব কারণেই কক্সবাজার আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বলে দাবি করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আ ক ম শাহারিয়ার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য আমন ও বোরো এ দুটি মৌসুমই প্রধান। কয়েক বছর ধরে দুই মৌসুমেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলায় আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং ১ লাখ ৯১ হাজার ৬৫০ টন চাল। কিন্তু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় দুই লাখ টনে পৌঁছে। পরের বছর আমনে বাম্পার ফলনে আগের বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। সেবার প্রায় আড়াই লাখ টন চাল উৎপাদন হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭ হাজার ৯৮৫ হেক্টরে ২ লাখ ১২ হাজার ৪০২ টন চাল। উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন।

এ সফলতার কৃতিত্ব দাবি করে কক্সবাজার সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. লোকমান হাকিম বলেন, কৃষকদের নিয়ে তিনটি করে ব্লক করে ৭১টি ইউনিয়নে ২১৩টি গ্রুপ করে প্রতি সপ্তাহে পরামর্শ সভা করা হয়। আমরা কৃষকদের নানা পরামর্শ দিই। এগুলো খুব কাজে দিয়েছে। কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, ভালো জাত বাছাই, বিভিন্ন প্রদর্শনী আয়োজন করার কারণে কৃষকরা সচেতন হয়েছেন। ফলে প্রতি মৌসুমেই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে উফশী জাতের মধ্যে বিনা ৮, ১০, ব্রি-১১, ২২, ২৩, ২৯, ৩৩, ৭৪, ৬২, ৩৩, ৫৮ এবং হাইব্রিডের মধ্যে সুপার, হীরা, পান্না, ময়না, হরি, পাইজার, ভারতীয় পাইজাম জাতের ধান বেশি চাষ হয়। তবে স্থানীয় লাল ধান চাষেও কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।