সম্পাদকীয়

১০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ

দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

১৮:০০:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

অর্থনীতি ও উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাতে বিরাজ করছে বিশৃঙ্খলা। সন্দেহ নেই, এ অবস্থার জন্য দায়ী চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদানের মতো কার্যক্রম। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। অস্বীকারের উপায় নেই, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, উচ্চ আদালতে রিট, সর্বোপরি বিচার না হওয়ার কারণেই শেয়ারবাজার, হলমার্ক, যুবক ও ডেসটিনির মতো বড় বড় অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণখেলাপির ঘটনা বাড়ছে। এমনকি নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বলতা, রাঘববোয়ালদের বাঁচাতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার কারণে আর্থিক খাতের লুটেরারা উৎসাহিত হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া অর্থ আত্মসাৎ সম্ভব নয়। ভুয়া কাগজপত্র ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের ঋণ দেয়াই এর প্রমাণ। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতে হলে প্রথমেই ঋণখেলাপিসহ প্রতিটি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণের কারণে পুঁজি সংকটে পড়ে কেবল যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোই সংকটের মুখে আছে তা নয়, বেসরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেক ব্যাংককেও ভুগতে হচ্ছে। বিষয়টি এরই মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ গোটা অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, খেলাপি ঋণ আদায়ে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এটা মহামারী আকার ধারণ করে আর্থিক খাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।

খেলাপি ঋণ উদ্ধার এবং ব্যাংকিং খাতের লুটপাট ও অনিয়ম রোধ করতে হলে মোটাদাগে কতগুলো বিষয়ে জোর দিতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি দেখাশোনার জন্য আলাদা একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। সরকারি ব্যাংকগুলোকে ডোবানোর পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের হাত থাকায় এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, খেলাপি ঋণ আদায় এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সরকারকে দ্রুত এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ঋণখেলাপিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। এখন আমরা দেখতে চাই, তালিকা অনুযায়ী এবং তালিকার বাইরে থাকা সব ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় বা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে ঋণ অবলোপন করার প্রক্রিয়া আমরা আর দেখতে চাই না। ব্যাংকিং কমিশন গঠন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা, ব্যাংকগুলোয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা প্রভৃতি প্রশ্নে সরকারকে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। যারা ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি করে ব্যাংকিং খাতকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে নিয়ে গেছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যারা বড় ঋণখেলাপি, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।