খবর, চট্টগ্রাম

বে-টার্মিনালের জমি অধিগ্রহণে ৩৫২ কোটি টাকা দিল চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ব্যুরো | ০১:৫৭:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বে-টার্মিনাল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে ৩৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে এ টাকা দেয়া হয়েছে। গতকাল নগরীর হোটেল র্যাডিসন ব্লু বে ভিউর মোহনা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেনের কাছে চেক হস্তান্তর করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

চট্টগ্রামে বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে বন্দরের টাকায় চার লাখ বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ১ হাজার ২০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন কেনা হয়েছে। আরো সাতটি এই বছর কেনা হবে। বন্দরের কাজের গতি বাড়াতে তিন হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টাগবোট, অ্যাম্বুলেন্স শিপ কেনা হয়েছে। কারশেড, অকশন শেড নির্মাণ করা হয়েছে। মোবাইল স্ক্যানার ভেহিকল সংগ্রহ করা হয়েছে। সিটিএমএস, ভিটিএমআইএস চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্দরের রিজার্ভ এখন ১৪ হাজার কোটি টাকা। সিঙ্গাপুর বন্দর দিয়ে উন্নত দেশ হয়েছে। বাংলাদেশকেও সেদিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদ সদস্য এমএ লতিফ বলেন, একেকটি টার্মিনাল একেকটি বন্দর। ২৫ বছর চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা নিয়ে পড়ে ছিলাম। দীর্ঘদিন বন্দরের উন্নয়ন হয়নি, যা সাধারণ মানুষ এমনকি রাজনীতিকরাও উপলব্ধি করেননি। প্রধানমন্ত্রী অবকাঠামো সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন। বন্দর ছাড়া অর্থনীতি যারা চিন্তা করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। ব্যবসার প্রধান শর্ত সময়। চট্টগ্রামে ১০টি বন্দর দরকার। পায়রা বন্দর হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বে-টার্মিনালের জন্য প্রস্তাবিত ৯০৭ একর জমির মধ্যে ৬৮ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন। বাকি ৮৩৯ একর সরকারি খাসজমি। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এর মধ্যে সরকার অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ৬৮ একর জমি জেলা প্রশাসন বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিলেই সেখানে চট্টগ্রাম বন্দরের ডেলিভারি ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।