আন্তর্জাতিক ব্যবসা

আগামী বছর আলিবাবা ছাড়বেন জ্যাক মা

বণিক বার্তা ডেস্ক | ২১:৩৭:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার প্রধান জ্যাক মার পদত্যাগের খবর কয়েক দিন ধরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে গত শুক্রবার বলা হয়েছিল, জ্যাক মা অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চমকে দেয়া এ খবরের পর আলিবাবার এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না পোস্ট জানায়, ওই তথ্য সঠিক নয়। অবসর নিচ্ছেন না জ্যাক মা, বরং নিজের উত্তরসূরি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিপরীতমুখী এসব খবরে স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে সংশয় কাজ করছিল। সবাই জানতে আগ্রহী ছিল ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে আলিবাবার অভ্যন্তরে। হয়তো সে লক্ষ্যেই বিতর্কের অবসানে অবসরে যাওয়ার সময় নিয়ে মুখ খুলেছেন জ্যাক মা নিজেই। সোমবার এক চিঠিতে তিনি জানান, আগামী বছর সেপ্টেম্বরে তিনি কোম্পানির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।

আলিবাবা প্রকাশিত ওই চিঠিতে জ্যাক মা জানান, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ঝ্যাং তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। পরে আলিবাবা এক বিবৃতিতে জানায়, ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ড্যানিয়েল এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আশা করা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া ‘মসৃণ ও সফলতার’ সঙ্গে সম্পন্ন হবে।

আলিবাবা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটি। গত বছর এ কোম্পানির শেয়ারের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সাবেক ইংরেজি শিক্ষক জ্যাক মা ১৯৯৯ সালে চীনের হ্যাংঝু শহরে যৌথভাবে আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি চীনের সরবরাহকারীদের সঙ্গে বিদেশের খুচরা ব্যবসায়ীদের সংযোগ ঘটাতে সক্ষম হন।

জ্যাক মা আলিবাবার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বলেন, শিক্ষকরা সবসময়ই চান যে তার ছাত্ররা তাদের ছাড়িয়ে যাবে। তাই আমার এবং এ  কোম্পানির দায়িত্ব হচ্ছে নেতৃত্ব গ্রহণে তরুণদের, আরো মেধাবীদের সুযোগ দেয়া।

এক বছরের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরও বর্তমানে ৩ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের মালিক জ্যাকের সঙ্গে আলিবাবার পুরোপুরি বিচ্ছেদ হচ্ছে না। ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত শেয়ারমালিকদের বার্ষিক সভার আগ পর্যন্ত জ্যাক আলিবাবার একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ক্যারিশমাটিক চরিত্রের জ্যাক মা রক স্টারের মতো পোশাক পরতে পছন্দ করেন। অবসরের পর তিনি শিক্ষা খাতে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন।

জ্যাক মার অ্যাপার্টমেন্টে একটি ওয়েবপেজের মাধ্যমে একদিন যে কোম্পানির যাত্রা হয়েছিল, আজকের দিনে তার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার কোটি ডলার। জ্যাক মার অবসরের মধ্য দিয়ে এ কোম্পানিতে নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। তার সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ক্লাউড কম্পিউটিং থেকে শুরু করে ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন মেসেজিং এমনকি সিনেমা নির্মাণ পর্যন্ত।

জ্যাক মা ১৯৬৪ সালে হ্যাংজুর এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র হিসেবে খুব একটা ভালো ছিলেন না। সে গল্প মা অনেকবার উল্লেখ করেছেন। তার সংগ্রামের শুরু স্কুলজীবন থেকেই। এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, হার্ভার্ড থেকে তিনি ১০ বার প্রত্যাখ্যাত হন। অনেকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন চাকরি জোগাড় করতে। কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় দুবার ব্যর্থতার পর অবশেষে ভর্তি হন হ্যাংঝু টিচার্স কলেজে। ১৯৮৮ সালে স্নাতক পাসের পর বেশ কয়েক বছর ওই প্রতিষ্ঠানেই ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন।

২০০৫ সালে এক সাক্ষাত্কারে খুব সাধারণ অবস্থা থেকে চীনের প্রখ্যাত প্রযুক্তি ব্যবসায়ীতে পরিণত হওয়ার এ গল্পকে জ্যাক নিজেই হলিউড কাহিনী বলে আখ্যা দেন। 

পরে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে জ্যাক কয়েক হাজার ডলার ধারের অর্থ বিনিয়োগ করে চীনের প্রথম দিকের একটি বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট চালু করেন। পরে তার ওই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলে জ্যাক মা দমে না গিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েন পরের উদ্যোগে। বন্ধুবান্ধব, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৬০ হাজার ডলার ধার করে ১৯৯৯ সালে বিজনেস টু বিজনেস মডেলের একটি মার্কেটপ্লেস ‘আলিবাবা’ নির্মাণ করেন। পরে প্রখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস, সফটব্যাংকও আলিবাবার প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করে।