খেলা, সাক্ষাৎকার

‘ফাইনালে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে চাই’

আহমেদ রিয়াদ | ২০:০৪:০০ মিনিট, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে খেলছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। টেস্ট-ওয়ানডে-টি২০ মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক ৩২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সামনেই এশিয়া কাপের আসর। এশিয়া কাপের ছয়টি আসরে খেলেছেন মুশফিক। এবারের এশিয়া কাপ ওয়ানডে ফরম্যাটের। এ ফরম্যাটে ১৮৭ ম্যাচে রান করেছেন প্রায় পাঁচ হাজার (৪৮২৮ রান)। স্বপ্ন দেখেন ওয়ানডেতে ১০ হাজার রান করার। সম্প্রতি বণিক বার্তাকে দেয়া সাক্ষাত্‍কারে মুশফিক কথা বলেন ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ ও এশিয়া কাপে নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে। সাক্ষাত্‍কারটি নিয়েছেন বণিক বার্তার স্পোর্টস রিপোর্টার আহমেদ রিয়াদ

 ক্রিকেটে ভবিষ্যতে আপনি নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

মুশফিক: সবসময়ই লক্ষ্য থাকে রান করার। ব্যক্তিগত হোক, দলীয় হোক, ভালো কিছু করার তাগিদ সবসময় থাকে। তবে উইকেটে নামার সময় এসব লক্ষ্য আর মনে থাকে না। লক্ষ্যগুলো কোথায় কীভাবে শেষ হবে তা হয়তো সময় বলে দেবে। তবে এই ১৩ বছরে অনেক কষ্টই করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আগের থেকে দ্বিগুণ পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে খেলার ইচ্ছা। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করতে চাই। সঙ্গে স্ট্রাইক রেটও ভালো রাখতে চাই।

এশিয়া কাপের আগে নতুন কোচ ব্যাটিং পরামর্শকের সঙ্গ কেমন অনুভব করছেন? আর টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য?

মুশফিক: সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শুরুটা আমাদের ভালো হয়নি। টেস্ট সিরিজে আমাদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি। ওখান থেকে কামব্যাক করার কৃতিত্ব পুরো দলের। সবাই যেভাবে নিজের জায়গা থেকে বাউন্সব্যাক করেছে, এটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাদের মাটিতে খুব শক্তিশালী। এবার আমরা যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজে হারিয়েছি, এটাকে কেউই ‘বি টিম’ কিংবা ‘এ টিম’ বলতে পারবে না। আমি মনে করি, নতুন কোচিং স্টাফ খুবই ভালো। নিল ম্যাকেঞ্জি আমাদের ব্যাটিংয়ে ছোট ছোট অনেক দোষ-ত্রুটি সংশোধন করেছেন। আমরা বিদেশের মাটিতে খুব একটা ভালো দল নই। এদিক থেকে ম্যাকেঞ্জির ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসও অনেক বছরের অভিজ্ঞ, যা আমাদের বিশ্বকাপে ভালো করতে সাহায্য করবে। সবার সঙ্গে ভালো একটা সমন্বয় হচ্ছে আশা করি, এশিয়া কাপেই আমরা এর সুফল ভোগ করতে পারব। এশিয়া কাপ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট। এশিয়া কাপে আমরা দুবার রানার্সআপ হয়েছি। এ বিষয়টা কিছুটা হলেও আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। এবারো সেরা দুইয়ের মধ্যে থাকার চেষ্টা করব।

বেশকিছু ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও হারার অভিজ্ঞতা আছে আপনার। এশিয়া কাপে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে সামলানোর পরিকল্পনা?

মুশফিক: ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল ম্যাচজয়ী ক্রিকেটার হওয়ার। ম্যাচজয়ী ক্রিকেটার তখনই হওয়া যায়, যখন পুরো খেলাটা নটআউট থেকে শেষ করে আসা যায়। ক্রিকেটে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমি কয়েকটা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পেরেছি। দল জয়ও পেয়েছে। আবার অনেক ম্যাচে জয়ের খুব কাছে গিয়ে আউট হয়ে ফিরে এসেছি। ক্রিকেটে এসব আছে বলেই খেলাটায় অন্যরকম চ্যালেঞ্জ থাকে। সে চ্যালেঞ্জটা নিয়েই এগোতে হয় ক্রিকেটারদের। ম্যাচ শেষ করে আসার চেষ্টা আমার সবসময় থাকে। টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে খুব কাছে গিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে আসতে পারিনি। ম্যাচটিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দলকে হারতে হয়েছিল। এবার সে ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। এশিয়া কাপে যদি এ রকম পরিস্থিতি আবার আসে, তাহলে অতীতের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে চেষ্টাই করব। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার চেষ্টা করব আমি। আমার আশা, এটা যেন এশিয়া কাপের ফাইনালে হয়।

নিজেদের প্রস্তুতিকে কীভাবে দেখছেন?

মুশফিক: বলে ৮ রান লাগে। শেষ ওভারে জেতার জন্য দরকার ১৩ রান। এভাবে লক্ষ্য সেট করে ম্যাচের আদলে ব্যাটিং ও বোলিং অনুশীলন, আমি মনে করি খুবই কার্যকর। অতীতে এসব পরিস্থিতিতে আমরা অনেক ম্যাচ হেরেছি। আবার জিতেছিও। এখন এ ধরনের পরিস্থিতিতে ম্যাচ বের করে আনার অনুশীলন আমরা করছি। ব্যাটসম্যানরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে বোলারদের। আশা করছি, এর সুফল এশিয়া কাপে পাব।

বণিক বার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: দেওয়ান হানিফ মাহমুদ

বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বিডিবিএল ভবন (লেভেল ১৭), ১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫

পিএবিএক্স: ৮১৮৯৬২২-২৩, ই-মেইল: [email protected] | বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন বিভাগ ফ্যাক্স: ৮১৮৯৬১৯