শেষ পাতা, খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

এবারো ঈদযাত্রায় ভোগাচ্ছে মেঘনা ও গোমতী সেতু

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০৬:০০ মিনিট, আগস্ট ১৮, ২০১৮

যানবাহনের চাপ সামাল দিতে বাড়ানো হয়েছে টোলবুথ। বিকল্প হিসেবে সেতুর নিচ দিয়ে চালু হচ্ছে ফেরি সার্ভিস। সার্বক্ষণিক কাজ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এত কিছুর পরও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও গোমতী সেতু এলাকায় তীব্র যানজট ঠেকানো যাচ্ছে না। ঈদযাত্রার প্রথম দিনই দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।

ঈদযাত্রার তীব্র দুর্ভোগ ছাড়ছে না দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখো যাত্রীদেরও। ফেরি ও নাব্য সংকটের পাশাপাশি পদ্মার তীব্র স্রোতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের ঈদযাত্রা। 

যানজট নিরসনের লক্ষ্যে মেঘনা সেতুতে টোল আদায়ের বুথ সংখ্যা চার থেকে বাড়িয়ে আটটি করা হয়েছিল আগেই। কিন্তু দুই লেনের সেতুতে নতুন এসব বুথ কোনো কাজেই লাগানো যায়নি। উল্টো সেতুতে ওঠার মুখে দেখা দিচ্ছে তীব্র বিশৃঙ্খলা। পরিবহন চালকরা বলছেন, আগে কোনো যানজট ছাড়াই সেতুটি পার হওয়া যেত। কিন্তু বুথ বেড়ে যাওয়ায় এখন টোলপ্লাজা পার হয়ে সেতুতে ওঠার লেনের মুখে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।

দুই লেনের সেতুর কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ন কার্যক্রমের পূর্ণ সুফল মিলছে না। সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি হলেই দেখা দেয় যানজট। গতকাল ঈদযাত্রা শুরুর প্রথম দিনেই মেঘনা সেতুর আশপাশে যানজট পরিস্থিতি তীব্র হতে শুরু করে। পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা বলছেন, ঈদযাত্রা তো সবে শুরু, সামনের দিনগুলোয় এখানকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে উঠতে পারে।

মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পড়েছে মেঘনা-গোমতী সেতু। এ সেতুও দুই লেনের। যানবাহনের চাপ সামলাতে বাড়ানো হয়েছে টোলবুথ। যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সেতুর কুমিল্লা অংশে যানজট বাড়তে থাকে বৃহস্পতিবার থেকেই। গতকাল সকালে এ যানজট প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়। বিকাল পর্যন্ত এ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যায়নি।

দাউদকান্দি থানার (হাইওয়ে পুলিশ) ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে এবং চার লেন থেকে সেতুর দুই লেনে উঠতে গিয়ে গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

অপ্রশস্ত ও বেহাল দশার সড়কপথের কারণে যানজট দেখা দিচ্ছে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সড়কেও। মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের ঘাটাইল পর্যন্ত অবস্থা মোটামুটি ভালো। তবে ময়মনসিংহ অংশের রহমতপুর থেকে ময়মনসিংহ সদর পর্যন্ত অবস্থা খুবই খারাপ। এ কারণে দীর্ঘ হচ্ছে যানজট, বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি।

ঢাকা-চট্টগ্রামে যানজট হলেও এবার তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। ফলে ঈদযাত্রার প্রথম দিনে মোটামুটি স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফিরেছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। গতকাল সকালের দিকে মহাসড়কের ওপর কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে কিছুটা যানজট দেখা দিয়েছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে বগুড়া পর্যন্ত সড়কটি ভাঙাচোরা। এ কারণে এ অংশে যানবাহন চলছে ধীরে।

এদিকে যানবাহনের বাড়তি চাপ ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে বিঘ্নিত হচ্ছে যানবাহন পারাপার। এ কারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ। শুক্রবার সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার চার লেন মহাসড়কের এক পাশের লেনে যানবাহন নদীপারের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আটকে থাকা যানবাহনের মধ্যে  যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে দু-তিনদিনেও ফেরির নাগাল পায়নি অনেক সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাক।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়ায় পাঁচটি ফেরিঘাট ও নৌরুটের ফেরিবহরে ২০টি ফেরি সার্বক্ষণিকভাবে যানবাহন পারাপার করছে। পারাপারের সক্ষমতার তুলনায় সংখ্যায় বেশি হওয়ায় দুই পারে অপেক্ষারত যানবাহনের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।

একই অবস্থা বিরাজ করছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটেও। এখানে পদ্মার নাব্য সংকট, ডুবোচর ও তীব্র স্রোতে যানবাহন পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে। পদ্মা পার হতে ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষকে।

গতকাল থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনে ঈদযাত্রা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছেড়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। চিলাহাটির নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টার পরিবর্তে ৮টা ৫০ মিনিটে এবং দেওয়ানগঞ্জের তিস্তা এক্সপ্রেস সাড়ে ৭টার পরিবর্তে সাড়ে ৮টায় ছেড়ে যায়। তবে দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসসহ অন্য ট্রেনগুলো ঠিক সময়েই স্টেশন ছেড়েছে।

দেশে রেলপথে প্রতিদিন ২ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দৈনিক তিন লাখ যাত্রী চলাচল করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন।