শেষ পাতা

সামিট এলএনজি টার্মিনালের ২৫% মালিকানা কিনছে মিত্সুবিশি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০০:০৬:০০ মিনিট, আগস্ট ১৮, ২০১৮

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট করপোরেশনের নির্মাণাধীন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের ২৫ শতাংশ মালিকানা কিনে নিচ্ছে জাপানভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিত্সুবিশি করপোরেশন। সামিট গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আলোকেই সম্প্রতি মালিকানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় উভয় প্রতিষ্ঠান।

সামিট গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের আগেই সামিট এলএনজি টার্মিনাল লিমিটেড নামে একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি সহায়তাসহ টার্মিনাল স্থাপনে মিত্সুবিশির সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে সামিট। প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের প্রকল্পে শেয়ারের মালিকানা নিয়ে সম্প্রতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে উভয় প্রতিষ্ঠান।

প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের এ প্রকল্পে গ্যাস রিসিভিং এবং ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে মিত্সুবিশি। এ প্রকল্পের পাশাপাশি সামিট এবং মিত্সুবিশি বাংলাদেশে এলএনজি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কাজ করবে বলে জানা গেছে।

এফএসআরইউ ব্যবহার করার কারণে প্রচলিত অনশোর টার্মিনাল থেকে অপেক্ষাকৃত কম খরচে ও দ্রুত সময়ে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা যায়। এ কারণে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো এলএনজি গ্রহণ সক্ষমতা বাড়াতে এলএনজি টার্মিনালের দিকে (এফএসআরইউ ব্যবহার করে) ঝুঁকছে। সামিট ও মিত্সুবিশির এ প্রকল্পের অধীনে সামিট এলএনজি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী দ্বীপের উপকূল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে একটি এফএসআরইউ স্থাপন করবে, যা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সরবরাহকৃত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করবে।

সামিটের এলএনজি টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের শেষদিকে শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চে এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যাবে। টার্মিনালের পরিকল্পিত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন (এমপিটিএ)। এভাবে ১৫ বছর চলার পর পেট্রোবাংলার কাছে টার্মিনালটি হস্তান্তর করবে সামিট গ্রুপ।

এর আগে মহেশখালীতে আরো একটি টার্মিনাল নির্মাণে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সঙ্গে গত বছরের ২০ এপ্রিল চুক্তি স্বাক্ষর করে সামিট। সামিটের ওই এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০-৫০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক ও সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে এতে ইকুইটি অর্থায়ন করছে। এর মধ্যে জেনারেল ইলেকট্রিকের কাছে ২০ শতাংশ ও সামিটের কাছে ৮০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এ প্রকল্প নির্মাণ শেষে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হবে। পেট্রোবাংলা সামিটের কাছ থেকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের বিনিময়ে দশমিক ৪৫ ডলার পরিশোধ করবে। চুক্তি অনুসারে ১৫ বছর পর পেট্রোবাংলার কাছে টার্মিনালটি হস্তান্তর করবে সামিট।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তর করা গ্যাস পেট্রোবাংলার কাছে সরবরাহের জন্য প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দর নির্ধারণ করা হয় দশমিক ৪৭ ডলার। তবে সামিট এর চেয়ে ২ সেন্ট কম দরে তা সরবরাহ করবে।