টকিজ

‘রোজ ভাবি নতুন কিছু করব’

ফিচার প্রতিবেদক | ২০:০৫:০০ মিনিট, আগস্ট ১৬, ২০১৮

চলতি বছর লাক্স সুন্দরীর মুকুট নিজের করে নেয়ার পর সবকিছুই যেন বদলে গেছে মিম মানতাসার। জানালেন, গ্ল্যামার জীবন উপভোগ করছেন ঠিকই কিন্তু এজন্য তাকে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এদিকে লাক্স সুন্দরী হওয়ার পর এই প্রথম ঈদের নাটকে নিয়মিত হয়েছেন। যদিও একাডেমিক পরীক্ষার কারণে শুটিংয়ে টানা অংশ নিতে পারেননি এ অভিনেত্রী। টকিজের মুখোমুখি হয়ে গতকাল এ গল্প তো করলেনই, সঙ্গে মিডিয়ার পথে তার নতুন পথচলার স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের কথাও ব্যক্ত করলেন

বলতে গেলে, এই প্রথম ঈদের নাটকে নাম লিখিয়েছেন। তো কেমন চলছে এসবের শুটিং?
ঝঞ্ঝাট ছাড়া আর শুটিং করতে পারলাম কোথায়! ১২ তারিখ পর্যন্ত একাডেমিক পরীক্ষা থাকায় টানা কাজ করতে পারিনি। তবে চেষ্টা করেছি। শুক্র ও শনিবার যে দুদিন বন্ধ পেয়েছি, সে সময়টুকু শুটিং করেছি। এবার ঈদে চ্যানেল আইয়ের জন্য মাহমুদ দিদার নির্মিত ‘এই শহরে আমার কোনো ঘর নেই’, এনটিভির জন্য ‘আব্বাস মিয়ার সাদা পরীর গল্প’ এবং লাক্সের একটি কাজ করছি আরটিভির জন্য। যদিও এর কাজ এখনো শুরু করিনি, সামনে করব।

 এ পর্যন্ত যারা লাক্স সুন্দরী হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ প্রতিষ্ঠিত নায়িকা হয়েছেন। আপনার ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু?
অভিনয়ের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় অনেকে ভাবেন, আমি বোধহয় অভিনয়ে নিয়মিত হব না। তাদের উদ্দেশে বলব, আমি মন থেকে অভিনয় করতে চাই। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে চাই, তা চলচ্চিত্র, নাটক— সবই হতে পারে। অবশ্য অনেকে পাশে থেকে আমাকে সাহস দিয়ে বলেছেন, মানতাসা পারবে। আমি তাদের আশাও পূরণ করতে চাই। 

আপনি বলছিলেন অভিনয় নিয়ে আপনার সে অর্থে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। তো নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নিয়মিত চর্চা করছেন কি?
শুরুতেই বলব, এ বছরের লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতা চার বছর পর হলো। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাকে নিয়ে সবার প্রত্যাশা বেশি। আমি সে প্রত্যাশা নষ্ট করতে চাই না। এজন্য শুরু থেকেই যা করছি, চেষ্টা করছি বুঝে শুনে করতে। আসলে লাক্সে যে গ্রুমিং পেয়েছি, অভিনয় করতে এসে তা খুবই কাজে লাগছে। এছাড়া নিজেকে আরো নিখুঁত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এত দিনে এ আত্মবিশ্বাস জন্মেছে যে আমি পারব; যা লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আসার আগে কখনো ভাবিনি। 

এ প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর ক্ষেত্রে আপনার অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?
এ প্রশ্নের উত্তরে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। আমি তখন ষষ্ঠ অথবা সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। একদিন আমার শিক্ষক এসে বললেন, ‘তুমি জানো, এবার লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার কে হয়েছে?’ বললাম, ‘জানি না।’ তারপর তিনি জানালেন, বিদ্যা সিনহা মিম। এরপর তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি চাই তুমিও লাক্স সুন্দরী হও।’ তার ওই কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, বিদ্যা সিনহা মিমকে আইডল ধরে নিয়ে লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর জন্য মনস্থির করি। তবে নানা কারণে দীর্ঘদিন তা বাস্তবে রূপ দিতে পারিনি। 

বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে পরবর্তীতে এ নিয়ে কোনো কথা বলেছিলেন?
না, তার সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি এ নিয়ে। কিন্তু আমি ভাগ্যবান যে তিনিই আমাকে লাক্স সুন্দরীর মুকুটটি পরিয়ে দিয়েছিলেন। 

নিজেকে সমৃদ্ধ করতে যে কৌশল অবলম্বন করেন?
আসলে এ জগতে খুব বেশি দিন তো আসিনি। তবু নিজেকে  গোছানোর চেষ্টা করছি। যা করছি তা মনোযোগ দিয়ে করার চেষ্টা করছি। আরেকটা কাজ করি, রোজ ভাবি নতুন কিছু করব।