পণ্যবাজার

চিনির জন্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করছে ‘একঘরে’ কাতার

বণিক বার্তা ডেস্ক | ১৯:১৩:০০ মিনিট, জুলাই ২৭, ২০১৮

প্রতিবেশীরা সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে একঘরে কাতার। এতে খাদ্যের জন্য আমদানিনির্ভর দেশটিকে নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। তবে পারস্য উপসাগরীয় দেশটিও দমার পাত্র নয়। সংকট কাটাতে দেশটির সরকার স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটিতে চিনির জন্য পরিশোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্সে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ। দেশটির জাতীয় আয়ের বড় অংশই আসে প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি থেকে। অনুর্বর ভূমির কারণে খাদ্যের জন্য দেশটি পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সৌদি আরবের সঙ্গেই দেশটির একমাত্র স্থলসীমা রয়েছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরিতে মদদ দেয়া, সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের জুনে সৌদি আরব, সংযুুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসরসহ বেশি কয়েকটি দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। ওই সময় সৌদি আরব সীমান্তও বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকেই কাতারে খাদ্যদ্রব্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। দেশটি আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকেই চিনি আমদানি করত। তবে সম্পর্ক ছিন্নের পর থেকে দেশটি ভারত ও অন্যান্য উৎপাদক দেশ থেকে চিনি আমদানি শুরু করেছে।

চিনির জন্য কাতারের পরিশোধনাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত যতটা না বাণিজ্যিক, তার চেয়ে বেশি কৌশলগত। বিশ্বে চিনি আমদানিকারকের তালিকায় দেশটির অবস্থান ১১৩তম। দেশটি গত বছর ২ কোটি ৩১ লাখ ডলার মূল্যের চিনি আমদানি করেছে। উদ্বৃত্ত উৎপাদনের কারণে বর্তমানে বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ ও মজুদ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। এ কারণে দামও নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া আশপাশের দেশে আগে থেকেই পরিশোধানাগার থাকার কারণে কাতারের এ উদ্যোগ বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা লাভজনক হবে না। তবে উৎপাদন ও জোগানের নিম্নমুখিতার কারণে ভবিষ্যতে চিনির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে ২৭ লাখ জনসংখ্যার দেশটিকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাছাড়া ২০২২ সালে দেশটিতে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। এসব বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় দেশটি পরিশোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাতারের অর্থনীতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এ উদ্যোগ স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমাদের অর্থনীতির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় সহায়তা করবে। আমাদের নিজেদের সহায়তা করার সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, রাজধানী দোহা থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে হামাদ বন্দরের কাছে এ পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হবে। ২০১৯ সালের শেষে বা ২০২০-এর শুরুতে এ পরিশোধনাগার চালু হবে। তিনি এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তি জানান, এ পরিশোধনাগার বছরে ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি উৎপাদন করতে পারবে, যা কাতারের বার্ষিক চাহিদা ৮০ হাজার টনের চেয়েও বেশি। তবে তারা এ প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে কিছু জানাননি।

দেশটির পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, এ পরিশোধনাগারে দৈনিক ৩০০ টন পর্যন্ত চিনি পরিশোধন করা যাবে। ২০২০ সালে এর কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এক ব্যবসায়িক সূত্র জানায়, হামাদ বন্দরকে প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও মোড়কজাতের খরচ বিবেচনায় এ প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। কারণ তাদের মোড়কও আমদানি করতে হবে। আরেকটি সূত্র জানায়, এটা কাতারের একটি কৌশলগত প্রকল্প। দেশটি মূলত ব্রাজিল থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির পর তা পরিশোধন করবে।