খবর

খালেদার ৬ মামলা: একটিতে আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহার

ল’ করেসপন্ডেন্ট, বণিক বার্তা | ১৭:০৯:০০ মিনিট, মে ১৭, ২০১৮

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির ৪টি মামলায় বৃহস্পতিবার কারাগার থেকে আদালতে উপস্থাপনের পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন করেন আইনজীবী। মামলাগুলো হল- নাইকো, গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা। মামলাগুলোর মধ্যে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবীর শুনানি শেষে নাইকো দুর্নীতির মামলায় আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

অন্যদিকে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আতাউর রহমান গ্যাটকো দুর্নীতির মামলায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলায় ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ কেএসএম শাহ ইমরান শুনানি শেষে অরফানেজ মামলায় জামিন বহাল থাকা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশ ওয়েবসাইটে দেখে আদেশ দেবেন বলে জানান।

এছাড়া ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদন ৪ জুন ধার্য তারিখে শুনানির জন্য ধার্য করেন। আদালত ওই আদেশ দেওয়ার পর তা পুনর্বিবেচনার জন্য খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে উপস্থাপন পরোয়ানা প্রত্যাহারের আবেদনগুলোর শুনানি করেন।

এদিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকা দুটি মানহানির মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য প্রসিকিউশনকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ অস্থায়ী আদালতে ভুয়া জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ মামলায় দুইটি মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ জামিন আবেদনের বিষয়ে এদিন আদেশের দিন ধার্য করেছে আদালত।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু আসামিপক্ষের ওই আবেদনের বিরোধিতা করেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, আসামিপক্ষ এ আবেদন দিতে পারেন না। এ দায়িত্ব প্রসিকিউশনের। অন্যদিকে আসামি পক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার দাবি করেন যে, প্রসিকিউশন পক্ষ এ আবেদন না দেওয়ায় তারা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম ভুয়া জন্মদিন পালনের মামলায় এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মামলায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীব গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশকেও আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করেন।

আদালত আদেশ দেওয়ায় প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, যেহেতু মামলা দুইটি দায়ের করেছেন দুজন ব্যক্তি। তাদের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ব্যবস্থা নেব।

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্ম দিনের মামলা দায়ের করেন। পরে ওই বছর ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের মদদের মামলাটি ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই বছর ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। রায়ের পর ওইদিনই তাকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিনের রোর্ডের কারাগারে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ওই কারাগারেই আছেন। গত গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট মামলাটিতে তার ৪ মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর গত ১৬ মে আপিল বিভাগ ওই জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন।