খবর

ডিসিসিআইয়ের কর্মশালায় অভিমত

ফুলচাষ নতুন শিল্প হিসেবে অবদান রাখতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২:৪৯:০০ মিনিট, মে ১৭, ২০১৮

বাংলাদেশে ফুলের চাষাবাদকে শিল্প হিসেবে রূপান্তরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জলবায়ু ও মাটির উৎপাদন গুণাগুণের ভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষাবাদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। গতকাল রাজধানীতে ‘ফুলের চাষাবাদ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইউএসএআইডির এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সেমিনারের আয়োজন করে। ডিসিসিআই সহসভাপতি রিয়াদ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চায়না হর্টিকালচার বিজনেস সার্ভিসেসের সভাপতি হেইডি ওয়ারনেট।

তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষাবাদের ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম উল্লেখযোগ্য হারে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ ফুলের বৈশ্বিক বাজারের আকার দাঁড়াবে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষাবাদ সফল করার জন্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বল্প সুদে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডিসিসিআই সহসভাপতি রিয়াদ হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ফুলের চাহিদা ক্রমেই বেড়েছে। ফুলের বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবদান মাত্র দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ফুল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৮০ লাখ ডলারের ফুল রফতানি হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষাবাদ হয়। এ খাতের সঙ্গে প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।

সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফুল চাষকে কৃষি খাতের একটি উপখাত হিসেবে শিল্পনীতির আওতাভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে জলাশয়ে ভাসমান ব্যবস্থায় ফুলের চারা উৎপাদন ও প্রতিপালন ব্যবস্থা সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআইয়ের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, সাবেক সহসভাপতি এম আবু হোরায়রাহ প্রমুখ।