দেশের খবর, লক্ষ্মীপুর

ভুলুয়া নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ

হুমকিতে চর কাদিরার ফসলি জমি

বণিক বার্তা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর | ২২:৪৯:০০ মিনিট, মার্চ ১৯, ২০১৮

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুলুয়া নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। সেই রাস্তায় চলাচল করবে ইটভাটার মাটি, বালি, জ্বালানি ও ইটবোঝাই ট্রাক্টর-ট্রলি। নদীতে এভাবে বাঁধ দেয়ায় আসছে বর্ষায় চর কাদিরা ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি জলাবদ্ধতার শিকার হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল সরেজমিনে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের রব বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভুলুয়া নদীর এক পাড়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ভাটাসংলগ্ন নদী পারাপারে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। ভাটার মালিক ইট ও মাটি-বালি পরিবহনের জন্য নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। নদীর দুই পাড় থেকে মাটি কেটেই নির্মাণ করা হয়েছে ওই রাস্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী আজিজুল হক ফারুক (ফারুক কোম্পানি) নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে ফসলি জমির ওপর ইটভাটা নির্মাণ করেছেন। ভাটার চিমনিটিও নিয়ম মেনে বানানো হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের জিম্মি করে নামমাত্র মূল্যে আশপাশের জমির উপরিস্তরের উর্বর মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, চার বছর আগে অবৈধভাবে ফসলি জমিতে ফারুক কোম্পানি ইটভাটা দেয়। বিগত বছরগুলোয় নৌকা দিয়ে ইট ও মাটি আনা-নেয়ার কাজ করলেও এবার নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

চর কাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল হান্নানসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই আশপাশের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়বে। দুর্ভোগে পড়বে শতশত পরিবার, ডুবে যাবে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সয়াবিন, মরিচ, তরমুজসহ বিভিন্ন প্রকার শাকসবজির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে ইটভাটার মালিক আজিজুল হক ফারুকের সঙ্গে সেলফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন।

স্থানীয় চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খালেদ মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার বিষয়টি শুনেছি। ইচ্ছা করলেই কেউ নদীর ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে পারেন না। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে।

এদিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কমলনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একেএম ছায়েদের রহমান। তিনি বলেন, সরেজমিনে গিয়ে নদীতে বাঁধ দেয়ার সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে কমলনগর উপজেলার ইউএনও ইমতিয়াজ হোসেনের সেলফোনে একাধিকবার কল দিলেও, তিনি তা রিসিভ করেননি।