শেষ পাতা

মুহূর্তেই মুছে গেল একটি পরিবার

বণিক বার্তা প্রতিনিধি যশোর | ০১:২১:০০ মিনিট, মার্চ ১৪, ২০১৮

ছেলে অনিরুদ্ধকে নিয়ে গোছানো সংসার বিপাশা-রফিক দম্পতির। বেড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকার যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে হিমালয়-কন্যা নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ইউএস-বাংলা এয়ারওয়েজে। সে যাত্রাই তাদের শেষ যাত্রা। বিমান দুর্ঘটনায় এক মুহূর্তেই মুছে গেছে একটি পরিবার।

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে মারা গেছেন যশোরের সদর উপজেলার উপশহরের বাসিন্দা সাবেরুল হকের মেয়ে সানজিদা হক বিপাশা, মেয়েজামাই মো. রফিক উজ জামান ও নাতি অনিরুদ্ধ জামান। সংবাদপত্রের মাধ্যমে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার খবর জানার পর বিপাশার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মেয়েজামাই আর নাতিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের সবাই।

বিপাশার বৃদ্ধ বাবা সাবেরুল হক জানান, ছেলের বায়নার কারণে নেপালে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল মেয়েজামাই। কিন্তু তারা চিরতরে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে।

সানজিদা হক বিপাশা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজনের) প্রোগ্রাম অফিসার ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। তার স্বামী রফিক উজ জামান প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে বেসরকারি সংস্থা এএনএফডব্লিউডিওতে কাজ করতেন। তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। একমাত্র ছেলে অনিরুদ্ধকে নিয়ে রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকায় থাকতেন তারা। অনিরুদ্ধ রাজধানীর ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলের ছাত্র।

সাবেরুল হকের তিন সন্তানের মধ্যে সানজিদা হক বিপাশা সবার বড়। বছর দুয়েক আগে বিপাশার মায়ের মৃত্যু হয়। বাবা সাবেরুল হক বয়সজনিত কারণে শয্যাশায়ী। বিপাশার দুই ভাই মিথুন ও মঈন ঢাকায় থাকেন।