পণ্যবাজার

২০১৮-১৯ মৌসুম

মিসরে গম উৎপাদন ৮৪ লাখ টন ছাড়াতে পারে

বণিক বার্তা ডেস্ক | ২০:৪০:০০ মিনিট, মার্চ ১৪, ২০১৮

আফ্রিকা মহাদেশে গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় মিসরের অবস্থান শীর্ষে। আগামী ১ জুলাই থেকে দেশটিতে গম উৎপাদনের ২০১৮-১৯ মৌসুম শুরু হবে। চলবে পরের বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ মৌসুমে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ৪ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। এ সময় দেশটিতে গম উৎপাদনের পরিমাণ ৮৪ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)। খবর এগ্রিমানি ও ওয়ার্ল্ডগ্রেইন ডটকম।

ইউএসডিএর গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে মিসরে সবমিলে ৮৪ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি গম উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। মূলত অনুকূল আবহাওয়া ও বাড়তি আবাদের জের ধরে এ মৌসুমে দেশটিতে গম উৎপাদনে তেজিভাব দেখা যেতে পারে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে মিসরে মোট ১৩ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম আবাদের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সালে মিসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গম উৎপাদন হয়েছিল। এ সময় দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনের পরিমাণ ৮৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর পর থেকে দেশটিতে গম উৎপাদনে মন্দাভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে মিসরে ৮১ লাখ টনের সামান্য বেশি গম উৎপাদন হয়েছিল। এ সময় দেশটিতে ১২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছিল।

এদিকে গম আমদানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় মিসরের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশটিতে সবমিলে ১ কোটি ২৫ লাখ টন গম আমদানি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের মৌসুমের তুলনায় প্রায় পাঁচ লাখ টন বেশি। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিসরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি হয়েছে। এ সময় দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানি দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালে দেশটিতে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মিসরে খাদ্যপণ্যটির আমদানি বেড়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার টন।

একই সঙ্গে ২০১৮-১৯ মৌসুমে মিসরে ৩৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ, যা আগের মৌসুমের প্রায় সমান। এ সময় দেশটিতে মোট ৫ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।