দেশের খবর

সেতুর অভাবে দুর্ভোগে চাটমোহরের ১৭ গ্রামের মানুষ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি পাবনা | ১৯:১৯:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শাখা নদী করতোয়ার ওপর বহরমপুর-মির্জাপুর এলাকায় কোনো সেতু না থাকায় দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে ওই এলাকার ১৭ গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিন দেখা যায়, করতোয়া নদীর পূর্ব পাড়ে মির্জাপুর হাট। সপ্তাহে দুদিন এ হাটে হাজারো স্থানীয় মানুষের সমাগম হয়। এছাড়া এ পাড়ে রয়েছে ব্যাংক, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ, দাখিল মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠান। ফলে নানা প্রয়োজনীয় কাজেই এ পাড়ে আসতে হয় পশ্চিম পাড়ের মানুষকে। একইভাবে পূর্ব পাড়ের মানুষকেও নানা প্রয়োজনে পশ্চিম পাড়ে আসতে হয়। অথচ সেতু না থাকায় তাদের নদীর পাড় থেকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নদী পারাপারে ব্যবহার করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো। এ অবস্থায় বহরমপুর, বেলগাছী, মামাখালী, চিনাভাতকুর, করকোলা, গৌড়নগর, বিন্যাবাড়ি, চরসেনগ্রাম, নটাবাড়ি, ধানকুনিয়া, বরদানগরসহ দুই পাড়ের প্রায় ১৭ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগর মধ্যে রয়েছে।

মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের কর্মচারী ও নদীর পশ্চিম পাড়ের বহরমপুর গ্রামের আব্দুর রশীদ বলেন, ছোটবেলা থেকে কেবল শুনে আসছি এখানে সেতু হবে, কিন্তু হচ্ছে না। সেতুর অভাবে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে যাওয়া, হাটে পণ্য আনা-নেয়া ও কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে গেলে কষ্টের সীমা থাকে না।

অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী বলেন, এ এলাকার রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন হয়নি। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে সেতু না থাকায় আমরা নানাভাবে পিছিয়ে পড়ছি।

বেলগাছী গ্রামের দুলাল পাল বলেন, আমাদের তৈরি মাটির হাঁড়ি-পাতিল হাটে নিতে গেলে সেগুলো কাঁধে নিয়ে এ সাঁকো পার হতে হয়। আষাঢ় থেকে কার্তিক এ পাঁচ মাস নদীতে যখন পানি থাকে, তখন খেয়া নৌকায় পারাপার হওয়া যায়। আর অগ্রহায়ণ থেকে জ্যৈষ্ঠ এ সাত মাস ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই একমাত্র ভরসা। বহরমপুর গ্রামের কৃষক প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য অনেকবার জরিপ হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ ব্যাপারে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খোকন বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।

চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী এম শহিদুল ইসলাম বলেন, এর আগে এলজিইডি থেকে তথ্য চাওয়া হলে উপজেলার নয়টি স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এর মধ্যে এ স্থানে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনাও রয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এ এলাকার মানুষকে অপেক্ষা করতে হবে।