আন্তর্জাতিক ব্যবসা

এক দশকের সর্বোচ্চ উচ্চতায় এশিয়ার শেয়ারবাজার

বণিক বার্তা ডেস্ক | ২১:০৪:০০ মিনিট, অক্টোবর ১৩, ২০১৭

বৈশ্বিক ইকুইটি বাজারের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী গতির ওপর ভর করে গতকাল এশিয়ার শেয়ারবাজার ১০ বছরের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সতর্ক মনোভাবের পর ডলারের মানে পতন ঘটতে দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল ইউরোপীয় শেয়ারবাজারের একটি মিশ্র প্রারম্ভ প্রত্যাশা করেছিল বাজার পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান স্প্রেডবেটারস। ব্রিটেনের এফটিএসই সূচক দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ পতন দিয়ে শুরু হওয়ার পূর্বাভাস করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে জার্মানির ডিএএক্স দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি ও ফ্রান্সের সিএসি সূচক অপরিবর্তিত অবস্থা দিয়ে শুরু হওয়ার পূর্বাভাস করা হয়।

এদিকে গতকাল জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারের বিস্তৃত এমএসসিআই সূচকে দশমিক ৫৫ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা ২০০৭ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। একই সময় জাপানের নিক্কেই সূচক দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২০ হাজার ৯৯৪ দশমিক ৪০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৬ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে দেখা গেছে। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক বেড়ে এক দশকে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের সূচকগুলোর ঊর্ধ্বগতির পর এশিয়ার শেয়ারবাজারেও উল্লম্ফন দেখা গেল। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জ্যানেট ইয়েলেনের উত্তরসূরি হিসেবে তুলনামূলক বাজারবান্ধব প্রার্থীকে নিয়োগ প্রচেষ্টার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো বেড়ে দ্বিতীয় দফায় রেকর্ড উচ্চতা অর্জনের পথে রয়েছে।

এছাড়া চলতি সপ্তাহে বিস্তৃত পরিধিতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মনোভাবে উন্নতি দেখা গেছে। বিশেষত কাতালোনিয়া স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সঙ্গে ৪৭ দেশের বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের এমএসসিআই সূচক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

এদিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ধাপ হিসেবে বৈশ্বিক ইকুইটিকে স্পেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ধাক্কা ও কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মতো ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন সামলে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাতে দেখা যাচ্ছে। বৈশ্বিক ইকুইটির প্রবণতা নিয়ে টোকিওর সুমিতোমো মিত্সুই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ কৌশলি মাসাহিরো ইচিওয়াকা বলেন, মৌলিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ভালো অবস্থাতেই রয়েছে। চীনের পিএমআই, যুক্তরাষ্ট্রের আইএসএম ও জাপানের তানকেনের মতো শক্তিশালী উপাত্ত সবল করপোরেট মনোভাবের প্রমাণ দিচ্ছে। এসব কিছুই বৈশ্বিক শেয়ারকে উত্থানের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। ইচিকাওয়া আরো বলেন, আর্থিক বাজারগুলো ভূরাজনৈতিক শিরোনাম নিয়ে সতর্ক থাকবেই। কিন্তু প্রকৃত সামরিক দ্বন্দ্ব ছাড়া ইকুইটির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সর্বদাই স্বল্পস্থায়ী থাকবে বলে আশা করা যায়।

এদিকে ফেডের ১৯-২০ সেপ্টেম্বরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের ধারাবিবরণী প্রকাশের পর ছয়টি প্রধান মুদ্রাঝুড়ির বিপরীতে ডলার সূচকের পতন দেখা গেছে। ধারাবিবরণী প্রকাশের পর ডলার সূচক কমে ৯২ দশমিক ৮২১ পয়েন্টে নেমে গেছে, যা দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন।

ধারাবিবরণী অনুসারে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও মূল্যস্ফীতি না বাড়লে ভবিষ্যতে সুদহার বৃদ্ধির পন্থা নিয়ে ফেড নীতিনির্ধারকদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে। নীতিনির্ধারকের দ্বিধার কারণে ডিসেম্বর নাগাদ ফেড সুদহার বাড়াতে পারে, এ ধরনের প্রত্যাশা কিছুটা কমেছে। সুদহার নিয়ে এ মুহূর্তে ফেডকে সেপ্টেম্বরের বৈঠকের তুলনায় কিছুটা শান্ত দেখা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর বৈঠকের পর বছর শেষে মুদ্রানীতি কঠোর করার আভাস দিয়েছিল ফেড।

ইউরোর বিপরীতে ডলারকে বিশেষভাবে অবমূল্যায়িত হতে দেখা গেছে। কাতালোনিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে পিছিয়ে আসা ইউরোপের একক মুদ্রাকে স্বস্তি দিয়েছে, যার সুবাদে ১ ইউরোর মান দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৮৭৯ ডলার, যা ২৫ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এ নিয়ে ইউরো টানা পঞ্চম দিন ঊর্ধ্বগতি অর্জন করল। এদিকে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মানে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডলারের বিপরীতে ১১২ ইয়েন লেনদেন হলেও গতকাল ১১২ ইয়েন দশমিক ৩৬০ লেনদেন হতে দেখা গেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ২২ অক্টোবর নিম্নকক্ষের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে— সম্প্রতি গণমাধ্যমের জরিপে এ তথ্য উঠে আসার পর ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন মুদ্রাটি শক্তি অর্জন করেছে। এদিকে নাফটাসংক্রান্ত আলোচনার প্রভাবে একই সময় মেক্সিকান পেসো ও কানাডীয় ডলারের বিপরীতে মান হারিয়েছে মার্কিন মুদ্রাটি।