প্রথম পাতা

বন্যায় ৩১ জনের মৃত্যু

বিপর্যস্ত ২০ জেলার ১৫ লাখ মানুষ

আয়নাল হোসেন ও শামীম রাহমান উত্তরাঞ্চল থেকে | ০১:১০:০০ মিনিট, আগস্ট ১৬, ২০১৭

দুদিন আগেও বাড়ির পাশের খোলা মাঠটিতে গরু চরিয়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ফুল মিয়া। সেই মাঠেই গতকাল বুকসমান পানি। একই অবস্থা পাশের শ্রীপুর, হরিপুর, চণ্ডীপুর, কঞ্চিবাড়ীসহ আরো কয়েকটি ইউনিয়নের। করতোয়া নদীর বাঁধ ভেঙে গতকাল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার ২৫টির মতো গ্রাম। জেলা প্রশাসনের হিসাবেই জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সোয়া দুই লাখ মানুষ।

গাইবান্ধার পাশাপাশি প্লাবিত হয়েছে আরো ১৯টি জেলা। সরকারের হিসাবে, গতকাল পর্যন্ত এসব জেলার পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা সাড়ে ১৩ লাখ। সবমিলে দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় এরই মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ১৫ লাখ মানুষ। তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে জানাচ্ছে বেসরকারি সূত্রগুলো।

পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলীয় জেলা কুড়িগ্রামে গতকালও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুজন মারা গেছেন নেত্রকোনায়। সবমিলে গত কয়েক দিনের বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১। এছাড়া পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে তিন লাখ হেক্টরের বেশি জমির ফসল।

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট। বন্যাকবলিত হয়েছে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী, জামালপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও গাজীপুর জেলাও।

এসব জেলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ গতকাল রাতে বণিক বার্তাকে বলেন, ২০টি জেলার ৬৮টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব জেলার ১৫ লাখ মানুষ। এরা সবাই পানিবন্দি— এটা বলা যাবে না। তবে নানাভাবে তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা আশঙ্কা করছি, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে পানি কমলেও মধ্যাঞ্চলে বাড়বে। বিশেষ করে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও টাঙ্গাইলে পানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই পানি বাড়ছে ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও কালীগঙ্গার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। এসব নদ-নদীর পানি এখনো বিপত্সীমার নিচে থাকলেও তিন-চারদিনের মধ্যে তা বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন।

গাইবান্ধা: কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গতকাল নতুন করে আরো দুটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এ নিয়ে জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিই বন্যার কবলে পড়ল।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ১০৩ সেন্টিমিটার, ঘাঘটের ৮৫ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি বিপত্সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সব নদ-নদীর পানি গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ বিপত্সীমার ৪-৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

গতকাল সরেজমিন গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুকনা স্থান বলে কিছু নেই। সবখানে থই থই পানি। স্রোতে ভেসে গেছে শত শত ঘরবাড়ি। আক্রান্তদের অনেকেই দৈনন্দিন কাজ করছেন নৌকার ওপর। শহররক্ষা বাঁধ ও উঁচু স্থানগুলোয়ও আশ্রয় নিয়েছে শত শত পরিবার।

ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের পঞ্চাশোর্ধ্ব হামিদা বেগম বলেন, এত ভয়াবহ বন্যা আর দেখিনি। ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়েও এবারের বন্যার ভয়াবহতা বেশি।

বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলেও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে দুর্গতরা। পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালও। তিনি বলেন, এলাকায় বন্যাকবলিত মানুষের তুলনায় বরাদ্দ কম। এ কারণে হয়তো সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ত্রাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পেলেই তা সরবরাহ করা হবে।

বন্যায় সীমাহীন দুর্ভোগের পাশাপাশি আক্রান্ত মানুষের মনে ভর করছে ডাকাতির ভয়। কাপাসিয়া এলাকার নবীর উদ্দিন জানান, গত বছরও বন্যার সময় এলাকায় কয়েকবার ডাকাতি হয়েছিল। এবারো ডাকাতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক প্রহরা দিচ্ছে।

জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যার ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি কাপাসিয়া ইউনিয়নে। ইউনিয়নের পূর্ব পাশের কয়েকটি গ্রাম শহররক্ষা বাঁধের কারণে রক্ষা পেলেও পাঁচ-সাত ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে পশ্চিম পাশের বেশির ভাগ এলাকা। বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে জেলার চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে।

সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য রয়েছে দুটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প। এর মধ্যে ‘ভাটি কাপাসিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’ পাঁচ-সাত ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এ প্রকল্পের ১৮০টি পরিবার। পাশেই রয়েছে আরেকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে গত ৩১ জুলাই। এখনো কোনো মানুষ তোলা হয়নি। এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক আক্রান্ত পরিবার। তবে বন্যার পানি আরো কয়েক সেন্টিমিটার বাড়লে সেটিও পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ টিউবওয়েলই পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ কেউ নদীর পানি আবার কেউ অর্ধেক ডুবে থাকা টিউবওয়েলের পানি পান করছে। এখনো পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য কোনো ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি বলে জানায় বন্যাকবলিতরা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া বলেন, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের নয়টিই বন্যার কবলে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার। এ হিসাবে এখানকার ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৯০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ টাকার সমমূল্যের শুকনা খাবারও বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ১২০টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর জেলা কৃষি অফিসের হিসাবে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার ১৪ হাজার ৪২৮ হেক্টর জমির রোপা আমন।

দিনাজপুর: এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় চার লাখ মানুষ। ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ। এছাড়া জেলার ১৩টি উপজেলার আটটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত তলিয়েছে জেলার প্রায় সোয়া লাখ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে অর্ধেকই আমনের জমি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, বন্যায় জেলার আটটি উপজেলার ১ লাখ ২১ হাজার ১৭০ হেক্টর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশই আমনের জমি। তবে গতকাল পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় ৭০ হাজার হেক্টর জমির ফসল রক্ষা পাবে। পানি দ্রুত না সরলে অবশিষ্ট জমির ফসলও নষ্ট হয়ে যাবে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কৃষক আবদুল হামিদ জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে বিআর-১১ ধান রোপণ করেছিলেন। রাতারাতি সব ধান তলিয়ে যায়। দু-একদিনের মধ্যে পানি সরে না গেলে এ ধান পচে যাবে। নতুন করে ধান রোপণের মতো বীজচারা তাদের নেই। একই এলাকার কৃষক নূর হোসেন জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছিলেন। পুরো জমিই এখন পানির নিচে।

জেলার পৌর এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, অফিস, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র তলিয়ে গেছে। এতে গত শনিবার থেকে প্রায় পুরো শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শহরের অলিগলিতে পানি ওঠায় অনেকে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

কুড়িগ্রাম: বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর আরেকটি কুড়িগ্রাম। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ জেলার সব নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। পানিবন্দি অবস্থায় আছে জেলার নয় উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের চার লক্ষাধিক মানুষ। পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে গত তিনদিনে জেলায় মারা গেছে মোট আটজন। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছে গতকাল।

ঘরবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে ফসলেরও। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, জেলার ৫০ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার হেক্টরই আমনের ক্ষেত। বাকি ১০ হাজার হেক্টর মরিচ, পটোলসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত।

এদিকে কুড়িগ্রামের টগরাইহাট এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে রেলসেতুর গার্ডার দেবে যাওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক তলিয়ে চারটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সোনাহাট স্থলবন্দরসহ নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা, ৬৫১ টন চাল ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা: এবারের বন্যায় জেলার সাত উপজেলার তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব গ্রামের ৩১ হাজার পরিবারের প্রায় সোয়া লাখ মানুষ। ফসলের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেলায়। ছয় হাজার হেক্টরের বেশি ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় আড়াইশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড. মোশফিকুর রহমান জানান, জেলার ৮৬টি ইউনিয়নের ২৯টিতে ৬ হাজার ২৬ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৩৮টি বাড়ি, ৮৩টি স্কুল, ১৪৮ কিলোমিটার সড়ক ও ২ হাজার ৫০ কিলোমিটার বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যায়।

বন্যার কারণে জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় গতকাল দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন— উপজেলার চকপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেন ও মণ্ডলেরগাতি গ্রামের আব্দুল মন্নানের ছেলে জামাল মিয়া। মকবুল হোসেন পানিতে পড়ে ও জামাল মিয়া বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান বলে জানান কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

লালমনিরহাট: জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। আক্রান্তদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

জেলায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য মত্স্য, কৃষি, রেলওয়ে, এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রাণিসম্পদ, শিক্ষা অফিস, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে বন্যায় ৩১ হাজার হেক্টর আমনের জমিতে পানি ঢুকেছে বলে জানা গেছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিধুভূষণ রায় বলেন, জেলার ৩১ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল জলমগ্ন হয়ে পড়ে। গতকাল পর্যন্ত ১৮ হাজার হেক্টরের পানি সরে গেলেও ১৩ হাজার হেক্টরের আমন ধান এখনো পানিতে ডুবে আছে।

এর বাইরে রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়েও বিপুল সংখ্যক মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। পাশাপাশি এসব জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ৩৬ হাজার, ঠাকুরগাঁওয়ে ২৬ হাজার, সিরাজগঞ্জে পাঁচ হাজার ও জামালপুরে আড়াই হাজার হেক্টরের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষি কর্মকর্তারা।

 

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বণিক বার্তার দিনাজপুর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ফুলাল, কুড়িগ্রামের বাদশা সৈকত, লালমনিরহাটের মোয়াজ্জেম হোসেন, সিরাজগঞ্জের অশোক ব্যানার্জি, নেত্রকোনার ভজন দাস ও গাইবান্ধার কায়সার প্লাবন।