পণ্যবাজার

২০১৭-১৮ মৌসুম

রাশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে গম রফতানি বাড়বে

বণিক বার্তা ডেস্ক | ২০:৩৭:০০ মিনিট, জুন ২০, ২০১৭

আসছে মৌসুমে উৎপাদন কম হওয়া সত্ত্বেও অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক রাশিয়া থেকে বাড়বে গম রফতানি। আরেক শীর্ষ রফতানিকারক কাজাখস্তানেও বিরাজ করছে একই অবস্থা। তবে চলতি মৌসুমের তুলনায় আগামী মৌসুমে শস্যটির রফতানি কমবে ইউক্রেন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) এক পূর্বাভাস প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপ প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে একই তথ্য। খবর রয়টার্স।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ মৌসুমে ২ কোটি ৮৮ লাখ টন গম রফতানি করতে পারে রাশিয়া। চলতি মৌসুমে দেশটি থেকে গম রফতানির লক্ষ্য রয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টন। এ হিসাবে আসছে মৌসুমে রাশিয়া থেকে গম রফতানি বাড়তে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

এদিকে আগামী মৌসুমে রাশিয়ায় গম উৎপাদন কমবে বলে ইউএসডিএর পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে দেশটিতে গম উৎপাদন হতে পারে ৬ কোটি ৮০ লাখ টন, যা ২০১৬-১৭ মৌসুমের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম।

উৎপাদন কম হওয়া সত্ত্বেও বাড়তি রফতানি প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ায় বিপুল পরিমাণ গম মজুদ আছে। বাড়তি মজুদের কারণে দেশটি থেকে খাদ্যশস্যটির রফতানি বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

একইভাবে আগামী মৌসুমে কাজাখস্তান থেকে ৭০ লাখ টন গম রফতানি হতে পারে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। সংস্থাটির পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমের তুলনায় ২০১৭-১৮ মৌসুমে দেশটি থেকে গম রফতানি বাড়তে পারে ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

রাশিয়ার মতো কাজাখস্তানেও আসছে মৌসুমে গম উৎপাদন হ্রাসের পূর্বাভাস রয়েছে। জানা গেছে, ২০১৭-১৮ মৌসুমে দেশটিতে গম উৎপাদন পূর্বাভাস রয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ টন, যা চলতি মৌসুমের তুলনায় ১১ দশমিক ৩ শতাংশ কম।

অন্যদিকে আরেক শীর্ষ উৎপাদক ইউক্রেন থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমে কমবে শস্যটির রফতানি। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে ইউক্রেন থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ টন গম রফতানি হতে পারে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইউক্রেন থেকে গম রফতানি লক্ষ্য রয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ টন। সংস্থাটির পূর্বাভাস সত্যি হলে আগামী মৌসুমে ইউক্রেন থেকে গম রফতানি কমবে ৩২ লাখ টন।

রাশিয়া ও কাজাখস্তানের মতো ইউক্রেনেও আগামী মৌসুমে গম উৎপাদন কমবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ মৌসুমে ইউক্রেন ২ কোটি ৪৫ লাখ টন গম উৎপাদন করতে পারে, যা চলতি মৌসুমের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ মৌসুমে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও ইউক্রেন থেকে সম্মিলিতভাবে ৫ কোটি ৪ লাখ টন গম রফতানি হতে পারে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে দেশ তিনটির সম্মিলিতভাবে গম রফতানি এর তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি ছিল।

১৬ জন বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে রয়টার্সের জরিপ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর (২০১৭) রাশিয়া, কাজাখস্তান ও ইউক্রেনে মোট ১০ কোটি ৫৮ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিলের (আইজিসি) তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিশ্বে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে, যা চলতি মৌসুমের উৎপাদন পূর্বাভাসের চেয়ে ২ শতাংশ কম। ২০১৬-১৭ মৌসুমে বিশ্বে ৭৫ কোটি ২০ লাখ টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

একই মৌসুমে বিশ্বে ২৩ কোটি ৫০ লাখ টন গম মজুদ থাকতে পারে, যা চলতি মৌসুমের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। তবে শস্যটির সরবরাহ ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে ৯৭ কোটি টনে দাঁড়াতে পারে।

আইজিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১২-১৩ মৌসুমের পর আগামী মৌসুমে বিশ্বে গম উৎপাদনের তুলনায় অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বেশি হবে। আগামী মৌসুমে বিশ্বে শস্যটি উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ টন। একই সময়ে ৭৩ কোটি ৭০ লাখ টন গম ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আইজিসি। এর মধ্যে ৫০ কোটি টন গম ব্যবহার হবে খাদ্য হিসেবে, যা এ যাবত্কালের মধ্যে সর্বোচ্চ। অবশিষ্ট গম ব্যবহার হবে পশুখাদ্য ও অন্যান্য উপকরণে।