আপনঅঙ্গন

ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন

ফিচার ডেস্ক | ২০:৩৫:০০ মিনিট, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৭

গবেষকরা বলেন, কাউকে দেখার ১ সেকেন্ডের ভেতরেই নাকি তার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়ে যায় মানুষের মনে। তাহলেই বুঝুন, প্রথম ইম্প্রেশনটা কতটা জরুরি। আর এ অভিব্যক্তি তৈরির উপলক্ষটা যদি হয় ইন্টারভিউ, তাহলে তো কথাই নেই। প্রথম দর্শনেই যদি আপনাকে নিয়ে নেতিবাচক একটা ধারণা জন্মে প্রশ্নকর্তার মনে, তবে সেটি থেকে উতরে আসাটা কষ্টকর বৈকি। ইন্টারভিউর জন্য তাই কাগজপত্র গুছিয়ে যেমন মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া দরকার, তেমনি বাইরের প্রস্তুতিটাও সমান জরুরি। এজন্যই জেনে নিন, ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় কীভাবে তৈরি হতে হবে— 

বেশভূষা
আপনার ইন্টারভিউর পোশাকটা আপনি কোন ধরনের চাকরির পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে। যদি চাকরিটা প্রবেশ স্তরের হয়ে থাকে, তবে আপনাকে অতটা ফিটফাট না দেখালেও চলবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, একেবারে অগোছালভাবে যাবেন। পোশাকে মার্জিত ভাবটা অবশ্যই বজায় রাখবেন। 

কোন রঙের শার্ট পরবেন
ইন্টারভিউর জন্য শার্টের রঙ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সাদা কিংবা হালকা নীল রঙ দুটোই আদর্শ। এ দুটো রঙই ধৈর্য ও স্থায়িত্বের একটা ভাব ছড়ায়। প্রশ্নকর্তার মনকে প্রভাবিত করতে এ দুটো রঙের জুড়ি নেই। 

স্যুট
ধরুন আপনি ব্যাংকের চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, তবে অবশ্যই স্যুট পরে যাবেন। প্রশ্নকর্তার দৃষ্টিতে আপনার পোশাক, আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ও যে পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাবেন, সে দুটোকে কতটা গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে দেখছেন তার পরিচায়ক। স্যুটের রঙ হিসেবে নেভি ব্লু রঙকে বেছে নিতে পারেন। স্যুটের নিচের শার্ট নীল অথবা সাদা রঙের হওয়াটাই ভালো। 

টাই
এবারে টাই প্রসঙ্গে আসা যাক। টাইয়ের বাছাইটা প্রবেশ স্তর থেকে শুরু করে উঁচু স্তরেও একই ধরনের হবে। শুধু নিশ্চিত করুন, টাইয়ের নকশাটা যাতে প্রাসঙ্গিক হয়। আর রঙের ক্ষেত্রে নেভি ব্লু, সবুজ, অথবা বারগেন্ডি রঙের টাই সাদা-নীল শার্টের সঙ্গে মানাবে ভালো। টাই বাঁধার ক্ষেত্রে বেশি নকশাবাজি না করে সাধারণ হওয়াটাই ভালো। 

প্যান্ট বাছাই
যদি আপনি স্যুট পরে ইন্টারভিউ দিতে যান, তবে আপনার কোটের রঙ ও আপনার প্যান্টের রঙ এক হওয়াটা আবশ্যক। আর যদি আপনি স্যুট না পরেন, তবে আপনার উচিত এমন প্যান্ট বাছাই করা, যাতে আপনার নিচের অংশের পোশাক আপনার উপরের পোশাকের পরিপূরক হয়। যেমন ধরুন, সাদা বা হালকা নীল রঙের শার্টের সঙ্গে গাঢ় রঙের প্যান্ট, যেমন— কালো বা নেভি ব্লু ভালো মানাবে। প্যান্টের সঙ্গে পরুন চামড়ার একটা বেল্ট। তবে খেয়াল রাখবেন, বেল্টের চামড়াটা যেন ভালো মানের হয় আর এর রঙটা যাতে জুতার সঙ্গে মিলে যায়। 

জুতা
ইন্টারভিউর জন্য আপনাকে অবশ্যই ফর্মাল ধরনের সু পরতে হবে। জুতার সামনের দিকটা চ্যাপ্টা বা সূচালো ধরনের না হয়ে গোলাকার হওয়াটাই ভালো। জুতা ও বেল্টের রঙটা এক হওয়া জরুরি। এ দুটোর রঙ তাই মিলিয়ে পরবেন। 

মোজা
মোজার রঙ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার জন্য দুটো দিক খোলা আছে। আপনি মোজাটা হয় জুতার রঙের সঙ্গে অথবা প্যান্টের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন। তবে যেটিই বেছে নিন না কেন চেষ্টা করুন গাঢ় একটি রঙ বাছাই করতে। এই একটা জিনিসের ক্ষেত্রে চোখে না পড়ার মতো রঙ না বেছে বরং সাহসী ধরনের রঙ বেছে নিতে পারেন। 

অন্যান্য
আপনার যদি নাক ও কানে দুল পরা থাকে, তবে সেটি ইন্টারভিউর সময়টা অন্তত খুলে রাখুন। ইন্টারভিউর দিন সুন্দর দেখে একটা ঘড়ি পরতে পারেন। সেটি যে দামি হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই; তবে দেখতে যেন ভালো হয়। মনে রাখবেন, আপনাকে দেখলেই যেন আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়চেতা মনে হয়। মাথার চুল যদি এলোমেলো থাকে, তবে আপনার চেহারায় এলোমেলো একটা ভাব চলে আসবে। তাই প্রয়োজন হলে হেয়ার জেল ব্যবহার করে চুলগুলোকে গুছিয়ে রাখুন। আর ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোমতো শেভ করে যাবেন। খোঁচা খোঁচা দাড়ি নিয়ে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়াটা কখনই ভালো দেখায় না। পারফিউমের ব্যবহারটা বুঝেশুনে করুন। বেশি কড়া গন্ধের পারফিউম ব্যবহার করলে কিংবা বেশি বেশি করে পারফিউম লাগিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে গেলে প্রশ্নকর্তা বিরক্ত বোধ করতে পারেন। নিজেকে পেশাদারি মনোভাবের প্রমাণ করতে চাইলে কাগজপত্র ব্যাগপ্যাকে বা খোলাভাবে না রেখে একটা পোর্টফোলিও বা ফাইলে রাখুন।