চট্টগ্রাম বার্তা, শেষ পাতা

অবকাঠামো ও প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতা

ট্রেনের গতি বাড়ানো নিয়ে দ্বিধায় রেল কর্তৃপক্ষ

সুজিত সাহা, চট্টগ্রাম ব্যুরো | ০১:১৯:০০ মিনিট, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬

আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫১তম ওয়ার্কিং টাইম টেবিল (ডব্লিউটিটি) কার্যকরের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয় রেলভবন থেকে। কিন্তু অবকাঠামো ও প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতার কারণে গতি বাড়ানো নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে রেলের পরিবহন বিভাগ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সোনার বাংলা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস নামের দুটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেনের বর্তমান পরিচালন সময় ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। এ সময় ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ ঘণ্টা ও আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে রেলের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ৩০ নভেম্বর পরিপত্র জারি করা হয়।

রেলভবনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৌশল বিভাগের কাছে ট্রেনের গতি বাড়ানোর অনুমোদন চায় পরিবহন বিভাগ। কিন্তু প্রকৌশল বিভাগ প্রকৌশলগত বেশকিছু সমস্যার উল্লেখ করে ৩২১ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেনের পরিচালন সময় একলাফে ৪০ মিনিট কমানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সত্ত্বেও সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের পরিচালন সময় ২০-২৫ মিনিটের বেশি কমছে না।

প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, রেলভবন কিংবা সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাইলেও রেলের গতি আমূল পাল্টে দেয়া সম্ভব নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দীর্ঘ রেলপথের আশপাশে বসতি রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টের পথ বক্রাকার হওয়ার পাশাপাশি লুপ লাইন, ডাবল লাইন থেকে সিঙ্গেল লাইনে প্রবেশের মুখে গতি নিয়ন্ত্রক, দুটি পুরনো রেলসেতু, বন্ধ ১৪টি স্টেশন ও রুটের অধিকাংশ অংশে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলকিং না থাকায় পদে পদে রেলের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু এ অবস্থাতেই এ রুটের সব আন্তঃনগর ট্রেনের পরিচালন সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রকৌশলগত এসব জটিলতা সমাধান না করেই এ মাত্রায় সময় কমিয়ে আনলে দুর্ঘটনা-ঝুঁকিতে পড়বে রেল। এতে দ্রুত সেবা দিতে গিয়ে যাত্রীসেবাই বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দুই-তৃতীয়াংশ ডাবল লাইন করা হলেও ৩২১ কিলোমিটার রেলপথে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। এসব সমাধানে বেশকিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। দুটি রেলসেতু ছাড়াও বন্ধ স্টেশন চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মাঝপথের অংশটুকু ডাবল লাইন না থাকায় প্রতিটি ট্রেনকে মোট চারবার পুরনো লাইন ক্রস করে ডাবল লাইনে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া রেলের অধিকাংশ কোচ ও ইঞ্জিন পুরনো। ফলে ট্র্যাকের সক্ষমতা সত্ত্বেও শতভাগ গতি বাড়ালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে। এর পরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ট্রেন চলাচলের গতিসীমা বাড়িয়েছি। এক্ষেত্রে কোনো ট্রেনকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা কিংবা ৫ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো এখনই উচিত হবে না।

জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালেহ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ভ্রমণ সময় ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে প্রকৌশলগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এ পথের আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথে ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। ভৈরব সেতু এক লেনের হওয়ায় আরো একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ পথের যাত্রীরা রেকর্ড পরিমাণ কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছার সময় কিছুটা কমিয়ে আনতে পরিবহন বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সদ্যবিদায়ী মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ গত ২৪ নভেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের পরিচালন সময় ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সে সময় বেশকিছু জটিলতার কথা উল্লেখ করে এখনই সময় ৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় রেলওয়ে। পরবর্তীতে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনার মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ ঘণ্টা ও ফেব্রুয়ারিতে চালু হতে যাওয়া নতুন ডব্লিউটিটিতে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেন।